সপ্তাহে তিন দিন, হেব্রনের উত্তরে আল-আররুব শরণার্থী শিবিরে নিজের ঘরে জেগে ওঠেন ওমর মুহেইসেন এবং একজন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তার দিন শুরু করেন। তিনি ‘মন্ডোউইস’-কে (Mondoweiss) বলেন, “দ্রুত সকালের নাস্তা সেরে আমার তিন সন্তান কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়; আমি তাদের প্রত্যেককে যাতায়াতের জন্য ২৩ শেকেল এবং কিছু কিনে খাওয়ার জন্য ১০ শেকেল করে দিই। এরপর আমার স্ত্রী কর্মস্থলে চলে যায়, আর আমি গাড়ি নিয়ে আমার কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। তেল কেনার মতো টাকা অবশিষ্ট থাকলে গাড়িতেই যাই, কিন্তু না থাকলে আমাকে পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে বেইত উম্মার গ্রামে যেতে হয়। সেখান থেকে গ্রামের উপকণ্ঠে সাফা নামক গ্রামীণ এলাকার সেই মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত আমাকে আরও পথ হাঁটতে হয়, যেখানে আমি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান পড়াই।”
ওমার মুহেইসেন সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কাজ করেন, তবে এই কার্যদিবস সপ্তাহভেদে পরিবর্তিত হয়। এর কারণ হলো, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের কাজের সময় কমিয়ে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ফিলিস্তিনি আর্থিক সংকটের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ হলো, ফিলিস্তিনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সুবাদে আদায়কৃত ফিলিস্তিনি শুল্কের অর্থ ইসরায়েল ক্রমাগত আটকে রাখছে।
২০১৯ সাল থেকে ইসরায়েল আনুমানিক চার বিলিয়ন ডলার আটকে রেখেছে এবং ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বারবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘অর্থনৈতিকভাবে ধস’ নামানোর অঙ্গীকার করেছেন। এই নীতি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর আর্থিক বোঝা বৃদ্ধি করেছে, যা তাদের ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অসম্পূর্ণ বেতন প্রদান করতে এবং পদ্ধতিগতভাবে সেবার কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনতে বাধ্য করছে।
সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে এই সংকট মূলত একটি পুরনো সংকটেরই ধারাবাহিকতা। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইতোমধ্যেই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের এই অনিশ্চিত বা শোচনীয় পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ২০১৬ সালে তারা পুরো পশ্চিম তীর জুড়ে একটি বিশাল ধর্মঘট আয়োজন করেন, যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে, ধর্মঘটের দাবিগুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত হয় এবং শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২২ সালে এবং পুনরায় ২০২৩ সালের শুরুর দিকে এই ধর্মঘট আবারও চাঙ্গা হয়ে ওঠে; প্রতিবারই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ধর্মঘট শেষ হলেও সেই প্রতিশ্রুতিগুলো কখনোই পূরণ করা হয়নি। যেসকল শিক্ষক এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের অনেককেই পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক আগাম অবসরে পাঠানো হয় অথবা ওমর মুহেইসেনের মতো প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে বদলি করে দেওয়া হয়।
মুহেইসেন বলেন, "আমি ২০২২ সালের ধর্মঘটে যুক্ত ছিলাম এবং হেবরন শহরের একটি স্কুলে পড়াতাম।" তিনি উল্লেখ করেন, "ধর্মঘটের পর আমাকে শহর ও সহকর্মীদের থেকে দূরে বেইত উম্মারের সাফা স্কুলে বদলি করা হয়।" এরপরও মুহেইসেন শিক্ষক আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন, কারণ তাঁর ভাষায়, "মাসে মাত্র ২,০০০ শেকেলে আমার পরিবার চালানো সম্ভব নয়, আর এ বিষয়ে চুপ করে বসে থাকলে পরিস্থিতির কোনো উন্নতিও হবে না।"
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলের সাপ্তাহিক কার্যদিবস কমিয়ে মাত্র তিন দিনে সীমাবদ্ধ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দৈনিক কার্যক্রম কমিয়ে মাত্র তিনটি ক্লাসে নিয়ে এসেছে। তরুণ ফিলিস্তিনিদের এক পুরো প্রজন্মের শিক্ষার গুণগত মানে এর প্রভাব পড়েছে, ঠিক যেমনটি ওমার মুহেইসেন এবং তাঁর বহু সহকর্মীর ক্ষেত্রে তাঁদের পেশাগত উদ্দেশ্যবোধকে ম্লান করে দিয়েছে।
“আমি আর আগের মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা জ্ঞান আহরণের বিষয়গুলো শেখাতে পারছি না,” মুহেইসেন বলেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার ক্লাসগুলোতে আমি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিডিও এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করতাম, যাতে তাদের মধ্যে সূক্ষ্ম ও বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন চিন্তাভাবনা জাগ্রত হয় এবং তারা নিজ উদ্যোগে শিখতে পারে। ক্লাস নেওয়া আমার কাছে একটি অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা ছিল এবং শিক্ষার্থীরাও শেখার বিষয়ে নিবিষ্ট থাকত।” বর্তমানে শিক্ষাদানের সময় সংকুচিত হওয়ায় মুহেইসেনকে বছরের শেষ নাগাদ পাঠ্যক্রম শেষ করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁকে বিষয়গুলোর ওপর দিয়ে কেবল দ্রুত চোখ বুলিয়ে যেতে বা ভাসা ভাসা ভাবে পড়াতে বাধ্য করছে। এর ফলে তাঁর শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
“এমনকি যে সমস্ত শিক্ষার্থী আগে ভালো ফল করত, তারাও এখন পিছিয়ে পড়ছে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে,” মুহেইসেন উল্লেখ করেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, স্কুলের দিনগুলোর মাঝখানের দীর্ঘ বিরতির কারণে তাঁকে পাঠের পুনরাবৃত্তি করতে হয়; কারণ শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ এবং পাঠের ধারাবাহিকতা বা নিয়মিত অনুশীলনের অভাব রয়েছে। মুহেইসেন আক্ষেপ করে বলেন, “একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে স্কুলের দিনগুলোর মাঝখানের সময়টাতে তার বাবার মুরগির খামারে কাজ করতে শুরু করেছে; তার আগ্রহ পুনরায় জাগিয়ে তোলা এখন খুবই কঠিন।”
এই সংকট শিক্ষকদের জীবনযাত্রার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ফিলিস্তিনি সরকারি শিক্ষকরা সবসময়ই স্বল্প বেতনভোগী পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, আর বর্তমান সংকট তাঁদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের সক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করে দিয়েছে।
৭ই অক্টোবরের পর, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (PA) কেবল শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতই করেনি, বরং চাকুরিকালীন সময়, অভিজ্ঞতা কিংবা কাজের ধরন নির্বিশেষে ঢালাওভাবে সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য মাসিক ২,০০০ শেকেল বেতন নির্ধারণ করেছে (অথচ আগে শিক্ষকদের কর্মস্থলের অবস্থানও বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচিত হতো)। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, নতুন এই স্থির বেতন পদ্ধতি এবং শিক্ষকদের পূর্ববর্তী বেতন ও প্রতিশ্রুত বেতন বৃদ্ধির মধ্যকার যে পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে, তার হিসাব তারা সংরক্ষণ করছে এবং পর্যাপ্ত তহবিল পাওয়া গেলে সেই বকেয়া পরিশোধ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; তবে মুহেইসেনের কাছে এই প্রতিশ্রুতির বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ এই আর্থিক সংকট মূলত বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই একটি প্রতিফলন, যার উন্নতির কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নয়।
প্রকৃতপক্ষে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যেমনটি স্পষ্ট করেছেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর এই আর্থিক অবরোধ মূলত ইসরায়েলের সেই কৌশলেরই অংশ, যার লক্ষ্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে ফেলা এবং পশ্চিম তীর দখল করা। একটি পরিস্থিতি যা দিন দিন আরও অনিবার্য হয়ে উঠছে বলে মনে হচ্ছে।
“সংকট মোকাবিলায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের গৃহীত কৌশলে শিক্ষা কোনো অগ্রাধিকার পাচ্ছে না এবং লভ্য তহবিল শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় ব্যয় করা হচ্ছে না,” তিনি জোর দিয়ে বলেন। “বিচারকদের মতো অন্যান্য খাত আমাদের মতো একই রকম বোঝার (সংকট) মুখোমুখি হচ্ছে না। আমরা এই সংকটের বোঝার একটি সুষম বণ্টন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে রক্ষা করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
ওমর মুহেইসেনের ঘরে এই (আর্থিক) বোঝার প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। মুহেইসেন সবিস্তারে বর্ণনা করেন, "যাতায়াত খরচ গত এক বছরেই ৫ শেকেল থেকে বেড়ে ১১ শেকেলে দাঁড়িয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "প্রতি কেজি মুরগির মাংসের দাম ১১ শেকেল থেকে ১৭ শেকেল হয়েছে, ভোজ্য তেল প্রতি গ্যালন ৯৫ শেকেল থেকে ১৩০ এবং চাল ১১০ শেকেল থেকে বেড়ে ১৬০ শেকেল হয়েছে। আগে আমরা দুপুরের জন্য এক রকম রান্না করতাম আর রাতের জন্য থাকত ভিন্ন কিছু। কিন্তু এখন আমরা একবেলাই রান্না করি এবং সেটিই দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য ভাগ করে নিই।"
বর্তমান আর্থিক সংকটের আগেও সরকারি শিক্ষকদের জন্য দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় কোনো পেশায় নিয়োজিত থাকা একটি সাধারণ বিষয় ছিল। কিন্তু এখন, তাদের অনেকের জন্যই সেটি আর কোনো কার্যকর পথ হিসেবে অবশিষ্ট নেই। ওমর মুহেইসেনের সহকর্মীরা একইসাথে ট্যাক্সি চালক, ইলেকট্রিশিয়ান, গৃহশিক্ষক, দোকানদার, কৃষক, এমনকি মেষপালক হিসেবেও কাজ করেন। ওমর মুহেইসেন নিজেও ইসরায়েলে একজন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে অধিকাংশ ফিলিস্তিনি নির্মাণ শ্রমিক তাদের জীবিকা নির্বাহ করত। তিনি বলেন, “আমি নাকাব মরুভূমির বির আল-সাবেয়া এলাকায় কাজ করতাম; কিন্তু দখলদার বাহিনী কর্মসংস্থানের অনুমতিপত্র বাতিল করার পর থেকে আমি সেখানে আর কাজ করতে পারছি না।”
“আমার অনেক সহকর্মী তাদের সম্পত্তি বিক্রি করেছেন এবং আমরা সবাই আমাদের সমস্ত সঞ্চয় নিঃশেষ করে ফেলেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণগ্রস্ত হতে বাধ্য হয়েছি এবং বর্তমানে আমার ১৫,০০০ শেকেল দেনা রয়েছে,” তিনি জানান।
পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি সমাজের ওপর ইসরায়েল যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ প্রয়োগ করছে, তা সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই সংকটের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে; তবে এই সমস্যার স্বরূপ আরও অনেক গভীরে নিহিত।
এই সংকটটি “ফিলিস্তিনি ব্যবস্থার একটি বৃহত্তর ও গভীরতর সংকটের উপসর্গ মাত্র,” বলেছেন ফিলিস্তিনি মানবাধিকার আইনজীবী ইসাম আবদিন, যিনি ২০১৬ সাল থেকে সরকারি শিক্ষকদের আন্দোলনের বিভিন্ন ধর্মঘটে তাদের পাশে থেকেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন।
“শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং সামগ্রিকভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংকটকে কেবল আর্থিক সংকটের নিরিখে বিচার করা হবে একটি অগভীর দৃষ্টিভঙ্গি,” আবদিন ‘মন্ডোউইস’-কে বলেন। “পুরো ব্যবস্থাটি রাজনৈতিক কারণে সংকটের আবর্তে নিমজ্জিত হয়েছে, যা শিক্ষকদের এই সমস্যার যথাযথ সমাধান খুঁজে পাওয়াকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে,” তিনি বলেন।
"বিগত বিশ বছর ধরে, অর্থাৎ সর্বশেষ নির্বাচনের পর থেকে দেশটিতে কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবন নেই; আর এটি সামাজিক সংলাপকে শ্বাসরুদ্ধ করে দিয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে শিক্ষক আন্দোলনের মতো সামাজিক আন্দোলনগুলোর সাথে করা আচরণের মধ্য দিয়ে," আবদিন বলে চলেন। তিনি বলেন যে, ২০১৬ সালের ধর্মঘটের পর শিক্ষক আন্দোলনকে "বিপর্যস্ত ও লাঞ্ছিত" করা হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, "এহেন বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা কোনো আন্দোলনকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করা বা জাগিয়ে তোলা অত্যন্ত দুঃসাধ্য।"
আবদিনের মতে, ফিলিস্তিনি ব্যবস্থার এই সংকট তৈরিতে পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং ফিলিস্তিনি সুশীল সমাজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো একটি গণতান্ত্রিক জীবন নিশ্চিত করার চেয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতেই বেশি আগ্রহী ছিল; আর তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন কোনো গণতান্ত্রিক সংলাপ আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইসরায়েল এই সংকটময় মুহূর্তে আর্থিক সংকট চাপিয়ে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও শতগুণ শোচনীয় করে তুলেছে।”
ওমার মুহেইসেন এই মতের সাথে একমত পোষণ করে বলেন যে, এর গভীর প্রভাব সমগ্র ফিলিস্তিনি জাতির ওপর পড়বে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "শিক্ষক হিসেবে আমাদের ওপর দিয়ে যা যাচ্ছে, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পুরো সমাজের ওপর পড়বে। কারণ পরিস্থিতি যে গতিতে চলছে, তাতে কেবল তারাই তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করতে পারবে যারা বেসরকারি স্কুলের খরচ বহন করতে সক্ষম।" নিজের পেশার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে মুহেইসেন উল্লেখ করেন যে, এই আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর বহু সহকর্মী সরকারি শিক্ষকতা ছেড়ে বেসরকারি স্কুলের চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। একসময় আরব বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত সমাজ হিসেবে পরিচিত ফিলিস্তিন এখন, মুহেইসেনের ভাষায়, "এক অন্ধকার ভবিষ্যতের অপেক্ষায়, যা মাত্র এক প্রজন্ম দূরে, যদি না এখনই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।"
কাসসাম মুয়াদ্দি মন্ডোওয়াইসের ফিলিস্তিনের নিজস্ব প্রতিবেদক। টুইটার/এক্স-এ @QassaMMuaddi-তে তাঁকে অনুসরণ করুন।
