War & Peace

ইরান হামলার সময় ওয়েলসে নোঙর করেছে মার্কিন গোলাবারুদবাহী জাহাজ

যুক্তরাজ্যের মাটি থেকে ইরানের ওপর ট্রাম্পের নতুন করে বিমান হামলা সচল রাখতে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে (RAF Fairford) বোমা পুনরায় মজুত করার উদ্দেশ্যে একটি মার্কিন সামরিক কনটেইনার জাহাজ গোপনে ওয়েলসে নোঙর করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রেক্ষিতে, গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক কনটেইনার জাহাজ 'এমভি সেগামোর' (MV Sagamore) গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) বিমান ঘাঁটিতে গোলাবারুদ সরবরাহ করতে দক্ষিণ ওয়েলসের নিউপোর্টে নোঙর করেছে; উল্লেখ্য, এই অভিযানগুলো ইতিপূর্বে কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের অধীনে পরিচালিত হয়েছিল এবং বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহাম কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। ট্র্যাকিং ডেটা এবং আলোকচিত্রের প্রমাণাদি জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাহাজটির আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে, যার মাধ্যমে এম৪ (M4) মোটরওয়ের সাহায্যে ওয়েলফোর্ড গোলাবারুদ ডিপোতে সপ্তাহান্তে গোপনে মালামাল সরবরাহের একটি ধারাবাহিক চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোতে বোমা সরবরাহের কাজে নিয়োজিত একটি মার্কিন সামরিক কনটেইনার জাহাজ গত সপ্তাহে দক্ষিণ ওয়েলসে নোঙর করেছে বলে প্রকাশ করা হয়েছে।

অ্যান্ডি বার্নহাম অনুমতি প্রদানের পর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানোর জন্য গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) বিমান ঘাঁটি পুনরায় ব্যবহার করা শুরু করার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে, যা তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকির জন্ম দিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে, ইরানের ওপর বোমা হামলা চালাতে ট্রাম্প ব্যাপকভাবে ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিটি ব্যবহার করেছিলেন।

 ডিক্লাসিফাইড এবং ব্লুমবার্গ কর্তৃক সংগৃহীততথ্য*-*প্রমাণ অনুযায়ী, মার্কিন বিমান বাহিনী ফেয়ারফোর্ড থেকে এত বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেছে যে তাদের বোমার মজুত কমে আসছিল।---মার্কিন বিমান বাহিনী ফেয়ারফোর্ড থেকে এত বেশি যুদ্ধ বিমান পাঠিয়েছে যে এর বোমা সরবরাহ কম ছিল, ডিক্লাসিফাইড এবং ব্লুমবার্গ দ্বারাসংগৃহীত প্রমাণঅনুসারে।

ফেয়ারফোর্ড বিমান ঘাঁটিটি ওয়েলফোর্ডে অবস্থিত একটি গোলাবারুদ ডিপোর ওপর নির্ভরশীল—যা এই ঘাঁটি থেকে গাড়িযোগে ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত—এবং এম৪ (M4) মোটরওয়ে থেকে উক্ত ডিপোতে যাওয়ার জন্য একটি নিজস্ব ব্যক্তিগত জাংশন রয়েছে।

সাধারণত প্রতি বছর দক্ষিণ ওয়েলসের নিউপোর্ট ডক থেকে এম৪ (M4) মোটরওয়ে হয়ে বোমাবাহী কনটেইনারবাহী লরির মাধ্যমে ওয়েলফোর্ড ডিপোতে গোলাবারুদ পুনরায় মজুত করা হতো।

মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে যে ২০২৪ সালে এই উদ্দেশ্যে এমভি সেগামোর  (MV Sagamore) জাহাজটি ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন এটি ওয়েলফোর্ডে মজুত করার জন্য নিউপোর্টে ডজন খানেক বোমাবাহী কনটেইনার খালাস করেছিল।

জাহাজ ট্র্যাকিংয়ের তথ্য এবং একজন স্থানীয় আলোকচিত্রীর তোলা একটি ছবি নিশ্চিত করে যে জাহাজটি গত শুক্রবার নিউপোর্টে পৌঁছেছে।

এটি জার্মানির ভিলহেল্মসহাভেন (Wilhelmshaven) থেকে যাত্রা করেছিল, যা ইউরোপে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি গোলাবারুদ স্থানান্তর বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই যাত্রাবিরতির আগে, জাহাজটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানি পয়েন্ট থেকে রওনা হয়েছিল; ফিলিস্তিনি যুব আন্দোলনের (Palestinian Youth Movement) তথ্য অনুযায়ী, যা হলো “বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বন্দর এবং এটি একচেটিয়াভাবে তাজা গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়”। 

‘মানুষ হত্যায় ব্যবহৃত’

গত সপ্তাহে সেগামোর কেন নিউপোর্টে নোঙর করেছিল সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী, জাহাজের মালিক পক্ষ কিংবা ডক পরিচালনাকারীদের কারও কাছ থেকেই কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মার্কিন পরিবহন কমান্ড—যা সেগামোরজাহাজটি পরিচালনা করে বলে ধারণা করা হয়—তার একজন মুখপাত্র ডিক্লাসিফাইড-কে জানিয়েছেন: “অভিযানগত নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে আমরা সামরিক গতিবিধি বা কার্গো (জাহাজের মালামাল) নিয়ে আলোচনা করি না”। 

 সেগামোর  যখন ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে নিউপোর্টে নোঙর করেছিল, উভয়বারই সেটি শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌঁছেছিল এবং প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অবস্থান করেছিল, যা ২০২৬ সালের সফরের সময়সূচির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে সেগামোর -এর এতটাই নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে যে জাহাজটি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ব্যর্থ গাজা ত্রাণ জেটি (aid pier) প্রকল্পের সাথেও যুক্ত ছিল।

শান্তি আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ফেয়ারফোর্ড অ্যাকশন-এর পিটার বার্ট বলেছেন: “ইরানের ওপর মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার অর্থ হলো, আজ ওয়েলফোর্ডের মার্কিন অস্ত্রাগারে যে গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে, তা আগামীকালই মধ্যপ্রাচ্যে মানুষ হত্যার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে”।

"এই বোমাগুলো এই দেশকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এখানে আনা হয়নি। যুক্তরাজ্য এমন এক মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি সরবরাহ ও জ্বালানি ডিপো হিসেবে কাজ করছে, যারা দায়িত্বহীন ও অবৈধ সামরিক হঠকারিতায় লিপ্ত রয়েছে; যা কেবল মধ্যপ্রাচ্যকেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। 

একটি নতুন জরিপের বরাত দিয়ে বার্ট বলেন, “জনসাধারণ এটি পুরোপুরি বোঝেন,” উক্ত জরিপে দেখা গেছে যে অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ার বিরোধী।

বার্ট আরও যোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী প্রচারণা এবং সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরিধি বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে,” যার অংশ হিসেবে আগামী ১৫ আগস্ট ফেয়ারফোর্ডের বাইরে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ফিল মিলার হলেন ডিক্লাসিফাইড ইউকে (Declassified UK)-এর সম্পাদক। তিনি 'কিনি মিনি: দ্য ব্রিটিশ মার্সেনারিজ হু গট অ্যাওয়ে উইথ ওয়ার ক্রাইমস' গ্রন্থের লেখক।

জন ম্যাকইভয় হলেন ডিক্লাসিফাইড ইউকে (Declassified UK)-এর প্রধান প্রতিবেদক। জন একজন ইতিহাসবিদ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা, যাঁর কাজ মূলত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতি এবং লাতিন আমেরিকার ওপর আলোকপাত করে। তাঁর পিএইচডি ছিল ১৯৪৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে কলম্বিয়ায় যুক্তরাজ্যের গোপন যুদ্ধগুলোর ওপর, এবং তিনি বর্তমানে অগাস্টো পিনোশের উত্থানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একটি তথ্যচিত্রের কাজ করছেন।

Available in
EnglishSpanishPortuguese (Brazil)GermanFrenchItalian (Standard)ArabicBengaliRussian
Authors
Phil Miller and John McEvoy
Translators
Tanvir Ahmed Talukder and ProZ Pro Bono
Date
20.08.2026
Source
Declassified UKOriginal article🔗
Progressive
International
Privacy PolicyManage CookiesContribution SettingsJobs
Site and identity: Common Knowledge & Robbie Blundell