Colonialism

ক্যারিবীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের ঘোষণা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি, ১৯৪০।

১৯৪০ সালে, ক্যারিবীয় কর্মীবৃন্দ আমেরিকার ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে স্থানান্তরের পরিবর্তে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার দাবি তোলেন।
হাভানায় অনুষ্ঠিত প্যান-আমেরিকান কনফারেন্সের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি (উইনেক) কর্তৃক "ক্যারিবীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের ঘোষণা" জারি করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন তীব্র রূপ নিচ্ছিল, তখন অক্ষশক্তির প্রভাব প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনরো নীতিকে জোরদার করার এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর উপর একটি "প্যান-আমেরিকান ট্রাস্টিশিপ" (প্যান-আমেরিকান অভিভাবকত্ব) প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিল। নিউইয়র্ক-ভিত্তিক ক্যারিবীয় কর্মীবৃন্দের সংগঠন ‘উইনেক’, ওই অঞ্চলের জনগণের সম্মতি ব্যতিরেকে যেকোনো ধরনের বিক্রয়, হস্তান্তর বা শাসনাদেশ জারির তীব্র বিরোধিতা করেছিল। এই ঘোষণাপত্রে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বই হলো যুদ্ধের প্রধান কারণ, ক্যারিবীয় জনগণ স্বায়ত্তশাসনের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং প্রকৃত শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অপরিহার্য। 

"আধুনিক বিশ্বে ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বই যুদ্ধের প্রধান উৎস।"

১৯৪০ সালের গ্রীষ্মকালে, যখন ইউরোপে যুদ্ধ তীব্র রূপ নিচ্ছিল, তখন আমেরিকার গোলার্ধের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ আমেরিকার প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্যান-আমেরিকান কনফারেন্সে যোগদানের জন্য হাভানায় মিলিত হন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে, এই সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল একটি পারস্পরিক আত্মরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করা, যাতে এই অঞ্চলের কোনো অঞ্চল অক্ষশক্তি দ্বারা দখল হলে যৌথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এখানে একটি জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল। মূলত অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও, ফ্রান্সের নাৎসিদের কাছে পতন এবং পানামা খালের ওপর আসন্ন নাৎসি আগ্রাসনের আশঙ্কায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্ডেল হাল সম্মেলনটি জুলাই মাসে এগিয়ে নিয়ে আসেন।

এক সপ্তাহের আলোচনা, বিতর্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পর, “আমেরিকার জাতিসমূহের প্রতিরক্ষার জন্য পারস্পরিক সহায়তা ও সহযোগিতা ঘোষণা” সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল। ১৮২৩ সালের মনরো নীতির নীতিবাক্যকে কার্যকরভাবে সংজ্ঞায়িত করে, এই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, আমেরিকার যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ মানে আমেরিকার সকল দেশের ওপর আক্রমণ এবং এর পাশাপাশি পারস্পরিক আত্মরক্ষার নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এটি এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে সুসংহত করার পাশাপাশি, আমেরিকার কোনো অঞ্চলকে এই অঞ্চলের বাইরের কোনো শক্তির কাছে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি 'অ-হস্তান্তরযোগ্য' নীতি দাবি করার মাধ্যমে ১৮২৩ সালের মনরো নীতির নীতিবাক্যকেও সংজ্ঞায়িত করেছিল; এবং একই সাথে একটি সাময়িক “প্যান-আমেরিকান ট্রাস্টিশিপ” (প্যান-আমেরিকান অভিভাবকত্ব)-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোকে যৌথভাবে শাসন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল।

এই পরিকল্পনা এবং সম্মেলনের বিরুদ্ধে বিরোধিতা ছিল। অক্ষশক্তিকে অসন্তুষ্ট করার আশঙ্কায় আর্জেন্টিনা প্রাথমিকভাবে এই সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ফ্রান্স ও জার্মানির সংবাদপত্রগুলো এই সম্মেলনকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পথ সুগম করার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল; একই কারণে মেক্সিকোর শ্রমিক ইউনিয়ন ও উগ্রপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের সরকারের এই সম্মেলনে জড়িত হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

এদিকে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের কর্মী ও সংগঠকগণ আমেরিকার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দাবি এবং ট্রাস্টিশিপের (অভিভাবকত্ব) মাধ্যমে ক্যারিবীয় অঞ্চল শাসনের যেকোনো পরিকল্পনা—উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি (উইনেক) নামক একটি সংগঠন হাভানা সম্মেলনে “ক্যারিবীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের ঘোষণা“ শিরোনামে একটি প্রতিবাদী দলিল পেশ করেছিল। নিউইয়র্ক-ভিত্তিক এই সংগঠনটি—যার সদস্যদের মধ্যে জামাইকান সমাজতান্ত্রিক নেতা ডব্লিউ. এ. ডোমিঙ্গো এবং বার্বাডোসীয় (বেজান) উগ্রপন্থী কর্মী রিচার্ড বি. মুর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—যুক্তি দিয়েছিল যে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের উপনিবেশগুলোর স্বাধীনতা লাভ করার, তাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করার এবং ইউরোপের ঔপনিবেশিক বেড়ি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নব্য-ঔপনিবেশিক শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার উপযুক্ত সময় এসেছে। তারা অনুধাবন করেছিলেন যে, ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর মধ্যকার যুদ্ধগুলো শেষ পর্যন্ত উপনিবেশগুলোকে কেন্দ্র করেই সংঘটিত হয়; ফলস্বরূপ, শান্তির পথ কেবল উপনিবেশগুলোর আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হতে পারে।

আজকের দিনে “ক্যারিবীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের ঘোষণা” পাঠ করা মানে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের দশকগুলোতে ক্যারিবীয় জাতীয়তাবাদী এবং সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধীদের উজ্জীবিত করা সেই বিপ্লবী ও আমূল পরিবর্তনকামী চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করা। কিন্তু এটি সমসাময়িক ক্যারিবীয় অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের হতাশাজনক পরিস্থিতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়—যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনরো নীতিতে এক নতুন ও ভয়াবহ প্রাণের সঞ্চার করছে; যেহেতু তথাকথিত স্বাধীন ক্যারিবীয় রাষ্ট্রসমূহ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার কাছে নতিস্বীকার করছে এবং একই সাথে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তাদের নাগরিকদের হত্যা করার ঘটনায় নিশ্চুপ থাকছে; যেহেতু পুয়ের্তো রিকো এবং ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এখনও উপনিবেশ হিসেবেই রয়ে গেছে এবং হাইতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি মারাত্মক নব্য-ঔপনিবেশিক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; এবং যেহেতু কিউবার সার্বভৌমত্ব গণহত্যামূলক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান কঠোর মরণফাঁদে বন্দি রয়েছে।

আমরা নিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটির “ক্যারিবীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের ঘোষণা” (Declaration of the Rights of Caribbean Peoples to Self-Determination and Self-Government) পুনর্মুদ্রণ করছি।

ক্যারিবীয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের ঘোষণা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি

প্রত্যেক জাতির জীবনেই এমন একটি সময় আসে যখন তাদের অস্তিত্বের শর্তাবলি পরীক্ষা করা এবং নিজেদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থরক্ষা ও “জীবন, স্বাধীনতা ও সুখের অন্বেষণ”-এর অবিচ্ছেদ্য অধিকারসমূহ ভোগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

ইউরোপে চলমান যুদ্ধ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আমেরিকার উভয় মহাদেশের জনগণের মৌলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের কারণগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই গুরুতর পরিস্থিতি পশ্চিম গোলার্ধের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপ্রিয় জাতিগুলোকে তাদের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, শান্তি এবং কল্যাণের জন্য বিভিন্ন সম্ভাব্য যৌথ পদক্ষেপের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

নতুন বিশ্বে (নিউ ওয়ার্ল্ড) কৌশলগতভাবে অবস্থিত এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর অস্তিত্ব প্যান-আমেরিকার জাতিসমূহের নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি এবং আগ্রাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, এবং এটি সর্বদা তা-ই করবে।

বহু বছর ধরে আমেরিকার দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়কগণ এই নীতি দাবি করে আসছেন যে, এই গোলার্ধকে পুরাতন বিশ্ব (ওল্ড ওয়ার্ল্ড)-এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধ থেকে মুক্ত রাখা উচিত। আমেরিকার অংশ হিসেবে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থসমূহ এই মৌলিক নীতির ব্যবহারিক প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৃত রক্ষণাবেক্ষণের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

আমেরিকার বাইরের শক্তিগুলো কর্তৃক এই অঞ্চলের জনগণের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এখন সমস্ত আমেরিকান জাতির সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হিসেবে স্বীকৃত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি জনমত তৈরি করা হচ্ছে, যা এই ক্যারিবীয় অঞ্চলগুলোর বিক্রয়, হস্তান্তর, জোরপূর্বক দখল অথবা এগুলোর ওপর ট্রাস্টিশিপ (অভিভাবকত্ব) বা শাসনাদেশ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ওকালতি করছে। কিন্তু এ ধরনের যেকোনো হুমকি কেবল আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ভিত্তিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনগণকে কঠোরভাবে প্যান-আমেরিকান জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমেই সবচেয়ে ভালোভাবে দূর করা সম্ভব। কেবল এভাবেই প্রকৃত “গুড নেইবার” (সুপ্রতিবেশী) সম্পর্কের একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।

সার্বভৌমত্ব পরিবর্তনের এই প্রস্তাবগুলোর ভয়াবহ প্রকৃতি এবং গুরুতর প্রভাবগুলো সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি এর সাথে সবচেয়ে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত জনগণের যৌক্তিক অবস্থান ও দাবি প্যান-আমেরিকান জাতিসমূহ এবং সমগ্র বিশ্বের দরবারে তুলে ধরাকে নিজেদের পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করে।

কমিটি আমেরিকা মহাদেশকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে সততার সাথে পরিচালিত প্রতিটি প্রচেষ্টাকে নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেগুলোকে সানন্দে সমর্থন করে। এটি অনুধাবন করে এবং এই অভিমত পেশ করে যে, আধুনিক বিশ্বে ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বই যুদ্ধের প্রধান উৎস। অতএব, পশ্চিম গোলার্ধ থেকে যুদ্ধের এই প্রধান আশঙ্কা দূর করার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে আবশ্যক। এই ক্যারিবীয় অঞ্চলগুলোর জনগণের গভীর অনুভূতিকে প্রতিফলিত ও ব্যক্ত করে, এই কমিটি ঘোষণা করছে যে, এই জনগণের মানবিক ও গণতান্ত্রিক অবিচ্ছেদ্য অধিকার—'আত্মনিয়ন্ত্রণ'-এর প্রয়োগ ব্যতিরেকে তাদের যেকোনো ধরনের বিক্রয়, হস্তান্তর, শাসনাদেশ, ট্রাস্টিশিপ (অভিভাবকত্ব) বা সার্বভৌমত্ব পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার তারা দৃঢ় ও চিরতরে বিরোধী।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং এর সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট ক্যারিবীয় অঞ্চলের জনগণের পক্ষে—যাদের মানবিক আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক স্বার্থ এই কমিটি ব্যক্ত করে—এটি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও হল্যান্ড বা অন্য যেকোনো শক্তির এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে, যা কোনোভাবেই তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে একটি প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে থাকার অলঙ্ঘনীয় অধিকারকে ক্ষুণ্ণ বা অস্বীকার করবে। কমিটি এই দাবি জানাচ্ছে যে, এই জনগণের রাজনৈতিক মর্যাদার যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক নীতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ইচ্ছাকে সম্পূর্ণরূপে যাচাই করতে হবে।

নিজেদের লক্ষ্য ও দাবির মৌলিক ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে সচেতন থেকে এবং প্যান-আমেরিকান জাতিসমূহের গণতান্ত্রিক অনুভূতির ওপর গভীর আস্থা রেখে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও এর সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট ক্যারিবীয় অঞ্চলের জনগণ অবাধ ও বাধাহীন আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রকাশ্য ঘোষণা দিচ্ছে। তাদের এই অধিকারের যেকোনো ধরনের অস্বীকৃতিকে বৈধ সকল উপায়ে প্রতিরোধ করা হবে; এবং তাৎক্ষণিকভাবে ও অত্যন্ত মৌলিকভাবে সংশ্লিষ্ট জনগণের সম্মতি ব্যতিরেকে এই অঞ্চলগুলোতে সামরিক, নৌ বা বিমান ঘাঁটি স্থাপন কিংবা সার্বভৌমত্ব পরিবর্তনের সাথে যুক্ত যেকোনো শক্তির পক্ষ থেকে এমন অস্বীকৃতির যেকোনো চেষ্টা তাদের সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার এক অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে। 

অধিকন্তু, আত্মনিয়ন্ত্রণের এই মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের যেকোনো ধরনের ক্ষুণ্ণতা বা অস্বীকৃতি প্যান-আমেরিকার জাতিসমূহ কর্তৃক দীর্ঘকাল ধরে ঘোষিত গণতন্ত্রের নীতিমালার এক চরম লঙ্ঘন বৈ অন্য কিছু হবে না। এটিও স্বতঃসিদ্ধ যে, এ ধরনের যেকোনো অস্বীকৃতি সেই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল, খর্ব ও ধ্বংস করবে, যা সমস্ত প্যান-আমেরিকান জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং প্রতিরক্ষার যৌথ প্রচেষ্টার ভিত্তি ও চালিকাশক্তি হওয়া আবশ্যক।

তদুপরি, এটিও নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, ক্যারিবীয় জনগণের জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি এবং সম্মান জানাতে যেকোনো ধরনের অস্বীকৃতি হবে গণতন্ত্রের মূল নীতিমালা এবং ক্ষুদ্র জাতিসমূহের অধিকারের একটি স্পষ্ট খণ্ডন ও প্রকাশ্য প্রত্যাখ্যান; অথচ বর্তমান সংকটে এই নীতিমালার পক্ষেই আমেরিকান ও লাতিন আমেরিকান জনগণের সহানুভূতি প্রার্থনা করা হচ্ছে। বিশ্ব পরিস্থিতির এই গুরুতর সংকট কেবল আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের সেই মৌলিক প্রশ্নটিকে আরও তীব্রভাবে সামনে নিয়ে এসেছে, যা এই অঞ্চলগুলোর জনগণ ইতিমধ্যেই উত্থাপন করেছিল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি নতুন বিশ্বের (নিউ ওয়ার্ল্ড) ঔপনিবেশিক অঞ্চলগুলোতে সার্বভৌমত্ব পরিবর্তনের আসন্ন সম্ভাবনাকে স্বীকার করে এবং যে জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে তারা ওকালতি করছে, স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় অস্তিত্বের ক্ষেত্রে তাদের অধিকারের বিষয়টি উপস্থাপন করছে। কমিটি এই সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যে, নতুন বিশ্বের (নিউ ওয়ার্ল্ড) প্রতিটি জাতি একটি বা একাধিক উপনিবেশের মর্যাদা থেকে বিবর্তিত হয়ে আজকের স্বাধীন জাতি হিসেবে বর্তমান অবস্থানে উন্নীত হয়েছে এবং ঘোষণা করছে যে, এই ঐতিহাসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতিটি প্যান-আমেরিকান জাতির উচিত স্বায়ত্তশাসনের প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ক্যারিবীয় জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে ন্যায়সঙ্গতভাবে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিতে দেখা।

কমিটি এই সত্যটির দিকেও ইঙ্গিত করছে যে, এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ঐতিহাসিক বিবর্তনের সেই পর্যায়ে অনেক আগেই পৌঁছেছেন, যেখানে তারা আধুনিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুযায়ী সরকারের ব্যবহারিক প্রশাসন পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাসিন্দাগণ সরকারের প্রতিটি বিভাগে—আইনসভা, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগ—এমন মাত্রায় অংশগ্রহণ করে আসছেন যে, শুধুমাত্র বিদ্যমান ঔপনিবেশিক সম্পর্কের কারণে হাতে গোনা কয়েকটি পদ ছাড়া আর সব পদই তাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যা অন্যথায় ইউরোপীয়দের অধীনে থাকত। 

কমিটি আরও উল্লেখ করছে যে, এই অঞ্চলের জনগণ একটি স্বাধীন জাতির সমস্ত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে এবং সেখানে স্বায়ত্তশাসনের জন্য শক্তিশালী আন্দোলনসমূহ বেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান রয়েছে, যা বর্তমানে পূর্ণ বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর প্রমাণ হিসেবে এর সাথে সংযুক্ত বিবৃতিতে বেশ কয়েকটি দৃষ্টান্ত ও উপস্থাপিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

ইউরোপে সাম্প্রতিক বিশ্ব-কাঁপানো সামরিক ঘটনাবলি এবং এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনগণের জন্য সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতি তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের জোরালো দাবিকে আরও বেগবান করে তুলেছে। ১৯৪০ সালের ২৭ মে জ্যামাইকার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সে দেশের আইন পরিষদ-এর নির্বাচিত সদস্যদের একটি ঘোষণা—যা এখানে উদ্ধৃত করা হলো—বিক্রয়, হস্তান্তর, শাসনাদেশ বা সার্বভৌমত্ব পরিবর্তনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে ক্যারিবীয় জনগণের বিদ্যমান মনোভাবের একটি আদর্শ উদাহরণ: “যদি কখনও এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যা এই ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে, তখন এই দ্বীপের জনগণ নিজেদের পরিচয় নিজেরাই নির্ধারণের অধিকার দাবি করবে এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে স্থাবর সম্পত্তি বা পণ্যের মতো হস্তান্তরযোগ্য হবে না।”

স্বায়ত্তশাসনের এই ধরনের বাস্তবায়ন দীর্ঘকাল ধরে এমন একটি লক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে, যার দিকে সমস্ত প্যান-আমেরিকান জাতির অনিবার্যভাবে এগিয়ে যাওয়া উচিত। ১৮৬৯ সালের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রেরিত এক বার্তায়, পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস. গ্র্যান্ট ঘোষণা করেছিলেন: “এই অধীনস্থ অঞ্চলগুলোকে (উপনিবেশ) এখন থেকে আর এক ইউরোপীয় শক্তি থেকে অন্য ইউরোপীয় শক্তিতে হস্তান্তরযোগ্য বিষয় হিসেবে গণ্য করা হবে না। যখন উপনিবেশগুলোর বর্তমান সম্পর্কের অবসান ঘটবে, তখন তারা স্বাধীন শক্তিতে পরিণত হবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও অন্যান্য শক্তির সাথে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে পছন্দ করার ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রয়োগ করবে।

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পানামায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ইন্টার-আমেরিকান কনফারেন্সে, মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদুয়ার্দো হাই এখানে উদ্ধৃত বিবৃতিটি পেশ করেছিলেন।

“যুদ্ধের কারণে, আমেরিকার বাইরের রাষ্ট্রগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আমেরিকার কিছু অঞ্চল সেই দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত হতে পারে।

“যদি এমনটি মনে হয় যে কোনো অঞ্চলে সার্বভৌমত্বের পরিবর্তন আসন্ন, তবে সেই অঞ্চলটিকে স্বাধীনভাবে নিজের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে সহায়তা করার লক্ষ্যে একটি পরামর্শমূলক সভা আহ্বান করা উচিত।

“অ-আমেরিকান জাতিগুলোর অধীনস্থ আমেরিকান প্রজাদের সাধারণ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা অন্যায় হবে।

“তাদের নিজেদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া উচিত।”

১৯৩৯ সালের মে মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সায়েন্টিফিক কংগ্রেসে সমস্ত প্যান-আমেরিকান জাতির অফিসিয়াল প্রতিনিধিদের দ্বারা গৃহীত একটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছিল যে, আমেরিকান প্রজাতন্ত্রসমূহ “প্রত্যেক জাতির নিজের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারের নীতিমালার প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত।” 

আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্বায়ত্তশাসন এবং পশ্চিম গোলার্ধের জনগণের গণতান্ত্রিক স্বার্থের এই মহৎ লক্ষ্য অনুসরণে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বৈরী সকল শক্তির সমূলোৎপাটনের জন্য আন্তরিক প্রতিটি প্রচেষ্টাকে সানন্দে সমর্থন করে। এটি পশ্চিম গোলার্ধে গণতন্ত্রের সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও প্রসারে এবং বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক নীতিসমূহ সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিটি পদক্ষেপে সমস্ত আমেরিকান জাতির সাথে নিজেদের পূর্ণতম সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।

কমিটি সমস্ত আমেরিকার এবং বস্তুত সমগ্র বিশ্বের গণতন্ত্রের সকল সমর্থক ও স্বাধীনতার প্রতিটি প্রকৃত প্রেমিকের প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও এর সংলগ্ন ক্যারিবীয় অঞ্চলের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বায়ত্তশাসনের ন্যায়সঙ্গত দাবি ও সঠিক লক্ষ্যের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি কমিটি

জ্যামাইকা: ডব্লিউ. এ. ডোমিঙ্গো, এফ. থিওডোর রিড, এম.ডি., জে. নরম্যান ক্লুনি, স্ট্যানলি বেথুন, ইউস্টেস ভি. ডেঞ্চ, আইনজীবী, আর. স্যামুয়েল ট্রু, রেভারেন্ড (ধর্মযাজক)। ই. এথেলরেড ব্রাউন, আর্চবিশপ উইলিয়াম আর্নেস্ট

ত্রিনিদাদ: সি. এ. পেটিওনি, এম.ডি., সিরিল ফিলিপ, আর্নল্ড ডোনাওয়া, ডি.ডি.এস., লিওনেল ফ্রান্সিস, এম.ডি., সি.এম., চার্লস ই. স্কিনার, রেভারেন্ড (ধর্মযাজক) থিওফিলাস আলকানতারা।

বার্বাডোস: রিচার্ড বি. মুর, রেজিনাল্ড পিয়েরপিন্ট, ফিটজেরাল্ড ফিলিপস, আইনজীবী, হোরাস আই. গর্ডন, আইনজীবী

উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস: ভার্নন এইচ. ড্যুবইস, ডি.ডি.এস., কাথবার্ট ই. ল্যাঙ্গিজ, থমাস জোন্স।

ব্রিটিশ গায়ানা: আর্থার ই. কিং, চার্লস ওসবোর্ন, পি.এম. এইচ. সেভরি, এম.ডি.

ইউ.এস. ভার্জিন আইল্যান্ডস: এমিল জি. থমাস।

ব্রিটিশ হন্ডুরাস: আর্থার এস. টেইলর, ফ্রেডরিক বার্জেস।

লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস: ট্রিস্টাম ই. চ্যালউইল, রেজিনাল্ড এইচ. ক্লাইন।

মার্টিনিক: জোসেফ ডেসেবসন, এম.ডি.

হোপ আর. স্টিভেন্স হলেন চেয়ারম্যান; মিসেস আইভি বেইলি এসিয়েন, ভাইস চেয়ারম্যান; এইচ. পি. ওসবোর্ন, সেক্রেটারি।

Available in
EnglishSpanishGermanFrenchItalian (Standard)TurkishArabicRussianBengaliHindi
Translators
Tanvir Ahmed Talukder and ProZ Pro Bono
Date
02.09.2026
Source
Black Agenda Report (BAR)Original article🔗
Progressive
International
Privacy PolicyManage CookiesContribution SettingsJobs
Site and identity: Common Knowledge & Robbie Blundell