২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের সকাল। কয়েক ঘণ্টা আগে বার্লিনভিত্তিক ব্রিটিশ নাগরিক জো হেইলু অন্য চার কমরেডের সাথে ব্যাডেন-উর্টেমবার্গের উল্ম শহরের এলবিট সিস্টেমস ডয়েচল্যান্ড অফিসের ভেতরে গোল হয়ে হাত ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। পুলিশ ঘরে প্রবেশ করতেই আরেক ব্রিটিশ নাগরিক ক্রো ট্রিকস কমরেডদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে আবারও বলেছিলেন, "সবাই মনে রাখবেন, আমরা অহিংস।" সার্কেলে থাকা জো এবং ক্রো-এর পাশে যথাক্রমে আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং জার্মানির ড্যানিয়েল ট্যাটলো-ডেভালি, লিয়েন্দ্রা রোলো এবং ভাই কোভারবাসিক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রত্যেককে দক্ষিণ ও পশ্চিম জার্মানির বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, জার্মান দণ্ডবিধির ১২৯ ধারা অনুযায়ী অপরাধমূলক সংগঠন তৈরি বা এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই লেখাটি লেখার সময় পাঁচজনই ১১ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রাক-বিচার অবস্থায় আটকে আছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে দিনে ২০ থেকে ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্জন কারাবাসে রাখা হয়।
"আমি জানতাম এটি বেশ কঠিন হতে পারে," রাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে সেই প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে der Freitag-এর সাথে একটি সাক্ষাত্কারে ড্যানিয়েল ট্যাটলো-ডেভালি বলেছিলেন, "তবে আমি এতটা খারাপ অবস্থা আশা করিনি।"
তাদের কারাবাস এবং আদালতের আচরণের অনেক দিকই পক্ষপাতমূলক বিচারের দিকে ইঙ্গিত করে। জামিন প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে প্রাক-বিচার অবস্থায় আপিলের সময় রাজ্যের উচ্চতর আঞ্চলিক আদালত (Oberlandesgericht) আপিল প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি, এই আন্দোলনের প্রকৃতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছে এবং অনুমান করেছে যে পাঁচজন অধিকারকর্মী ১২৯ ধারার অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কাছাকাছি শাস্তি পেতে পারেন। আদালতে এই পাঁচজনকে নিজেদের আইনজীবীদের থেকে আলাদা করে বুলেটপ্রুফ কাচের পেছনে রাখা হয়। এই ব্যবস্থাটি একটি ইন্টারকম সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে, যা ডিফেন্স আইনজীবীরা ইউরোপীয় স্তরের আইনের ভিত্তিতে আপত্তি জানিয়েছেন; কারণ এই আইন ডিফেন্স ও আসামির মধ্যে অবাধ ও গোপনীয় যোগাযোগের সুযোগ দেয়। তাদের পাঁচটি ভিন্ন (ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা করা) কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আটকে রাখা হয় এবং বন্দী পরিবহন ভ্যানের পেছনের কারাগারে থাকাকালীন তাদের পায়ে বেড়ি এবং ভারী হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়।
জো হেইলুকে বুহলের কারাগারে প্রথম পৌঁছানোর সময় সম্পূর্ণ নগ্ন করে তল্লাশি করা হয়েছিল। তারপরে তাদের পোশাক ও অন্তর্বাস খুলে—শুধু ডায়াপার পরিয়ে ছয় ঘণ্টার জন্য একটি সেলে রেখে দেওয়া হয়েছিল।"...২২শে জুলাই সহ-আসামি ভাই কোভারবাসিকের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলোর আনুপাতিকতা পর্যালোচনার একটি আবেদনের সমর্থনে আদালতে জো বলেছিলেন, 'আমি সাত বা আট মাস ধরে আমার কারাগারে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছি। আমি প্রতিদিন সম্পূর্ণ তদারকি ছাড়াই কারাগারের চারপাশে হাঁটি[...]। ১০ মাস ধরে আমার আচরণে এমন কিছু প্রকাশ পায়নি যা দেখে মনে হতে পারে যে আমরা পালিয়ে যাব। তাহলে কেন আমাদের পায়ে এভাবে বেড়ি পরিয়ে রাখা হচ্ছে?'
তাদের কারাবাসের ক্ষেত্রে, ১২৯ ধারা থেকে প্রাপ্ত বিশেষ ক্ষমতাগুলো এই পাঁচজনকে তথ্যগত হুমকি বা ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করার অনুমতি দেয়। পারিবারিক সাক্ষাতের সময় পুলিশ উপস্থিত থাকে, যা্রা আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত যেকোনও বিষয়ে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করতে গিয়ে কথোপকথনে বাধা দেয়। এর মধ্যে এমন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত যা আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে মনে করা হতে পারে। ফলে গাজার গণহত্যা নিয়ে আলোচনাও অনুমোদিত নয়। উল্ম কারাগারে ট্যাটলো-ডেভালিকে বন্দিত্বের প্রথম দুই সপ্তাহে নিজের আইনজীবীর কাছে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। ড্যানিয়েলের পরিবার বা আইরিশ কনসুলেটের পক্ষ থেকে দেখা করার অনুরোধও প্রথম মাসে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। ড্যানিয়েলের মা মিমি ট্যাটলো-গোল্ডেন-এর ভাষায়, কারাগার থেকে ড্যানিয়েলকে জানানোও হয়নি যে তার পরিবার "পাগলের মতো তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে"।
জার্মানির আইনি ব্যবস্থার সাথে ব্রিটেনের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ব্রিটিশ রাষ্ট্র যখন জুরি ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানছে এবং মিস্টার জাস্টিস জনসন যখন ফিল্টন ট্রায়ালে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের তথ্য বাদ দিয়ে জুরির ভূমিকাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন- জার্মানির প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো— দেওয়ানি আইন ব্যবস্থা হওয়ায় এটি সম্পূর্ণরূপে জুরিবিহীন। এই চেম্বারটি একজন প্রধান বিচারক (এক্ষেত্রে বিচারক ক্যাট্রিন লাউচস্ট্যাড), দুজন সহকারী বিচারক এবং দুজন লে-জাজ (lay-judges অর্থাৎ আইন বিষয়ে অপ্রশিক্ষিত সাধারণ নাগরিক) নিয়ে গঠিত। যদিও লে-জাজদের জুরির মতো ভূমিকা পালন করার কথা—যা প্রধান বিচারকের ক্ষমতাকে কিছুটা কমিয়ে দেয়। বাস্তবে তারা কেবল তাদের পাশে বসা কর্তৃত্বপূর্ণ, প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ সহ-বিচারকদের মতামতকেই সমর্থন করে।
জার্মান ক্রিমিনাল কোডের ১২৯ক ধারা জাতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কিত এবং ১২৯খ ধারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের শাস্তি দেয়। জার্মানির "সন্ত্রাসবাদ" সংজ্ঞার পরিধি ব্রিটেনের চেয়ে কিছুটা কঠোর হওয়ায় উল্ম৫-কে ১২৯ ধারার অধীনে একটি অপরাধমূলক সংস্থা হিসেবে বিচার করা হচ্ছে। ফৌজদারি সংস্থা আইন অবশ্য অ্যাক্টিভিস্ট এবং বামপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একটি বড় হাতিয়ার। জলবায়ু কর্মী গোষ্ঠী Letzte Generation এবং Antifa East-এর অন্যান্য কর্মীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ১২৯ ধারার অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে—যা ব্রিটেনের মানুষের কাছে নতুন কিছু নয়। ব্রিটেনের মতো করেই জার্মানি অ্যাক্টিভিস্টদের বিচার করতে নিরাপত্তা আইনের পূর্ণ ব্যবহার করছে—যা মৌলিক অধিকার দিতে ভয় পাওয়ার লক্ষণ।
গণহত্যা কনভেনশন স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে গণহত্যা প্রতিরোধে বাধ্য করে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের "বসনিয়া বনাম সার্বিয়া" রায় স্পষ্ট করেছে যে "রাষ্ট্র গণহত্যাকে যথাসম্ভব প্রতিরোধ করার জন্য যুক্তিসঙ্গতভাবে উপলব্ধ সব উপায় ব্যবহার করতে বাধ্য" (অনুচ্ছেদ ৪৩০)। সুতরাং, যখন একটি রাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, বা প্রকৃতপক্ষে যখন রাষ্ট্র গণহত্যায় সহায়তা ও প্ররোচনা দেয়, তখন কি ব্যক্তিরাই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য নয়? আন্তর্জাতিক আইনের যুক্তি অনুসরণ করে যারা গণহত্যা প্রতিরোধে যথাসম্ভব যুক্তিসঙ্গত সব উপায় ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন, আদালতে সেই অ্যাক্টিভিস্টদের নিপীড়ন করা জার্মানি এবং ব্রিটেনের নিজস্ব যুদ্ধোত্তর প্রতিশ্রুতির একটি বিকৃত রূপ।
বিচারক লাউচস্ট্যাড এবং তার চেম্বার এলবিট সিস্টেমস ডয়েচল্যান্ডের অপরাধের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আইনের শাসনের ধারণার প্রতি কঠোরভাবে অনুগতদের জন্য একটি প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন: জো, ক্রো, ড্যানিয়েল, লিয়েন্দ্রা এবং ভাই-এর গণহত্যা প্রতিরোধের উপায়গুলো কি বৈধ ছিল? (যদি এই ধরনের প্রশ্ন আদালত উত্থাপন করত, তবে যেকোনও ক্ষেত্রে এর উত্তর সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকত এবং কোনও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো না)। গণহত্যায় এলবিট সিস্টেমস ডয়েচল্যান্ডের ভূমিকাকে বিবেচনায় না নেওয়া আদালতের এই রায় দেওয়ারই সমতুল্য যে গণহত্যার যেকোনও ধরনের প্রতিরোধই অবৈধ। অন্য কথায়, নীরবতার মাধ্যমে আদালত যেন ঘোষণা করছে যে এই ফার্মের ভূমিকা বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই। তারা গণহত্যায় অংশ নিক বা না নিক, এই ফার্মের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া যেকোনও উপায়েই শাস্তিযোগ্য।
এই নীরবতা এবং চেম্বারের আচরণের অর্থ বোঝা খুব একটা কঠিন নয়। ১লা জুলাই ব্যাডেন-উর্টেমবার্গের পুলিশ অফিসার বাসতিয়ান গ্রপ সাক্ষ্য দিতে আসেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে পুলিশ এলবিট সিস্টেমস ডয়েচল্যান্ডের ভূমিকা তদন্ত করেনি। যদিও এই ধরনের তদন্তের অভাব আশ্চর্যজনক নয়, তবে রাজ্যের পাবলিক প্রসিকিউটর চাইলে পুলিশকে তা করার নির্দেশ দিতে পারতেন। ডিফেন্সের পক্ষ থেকে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে যে জার্মানির প্রসিকিউটরদের অনন্য বাধ্যবাধকতা রয়েছে: তাদের অপরাধমূলক এবং নির্দোষ প্রমাণকারী উভয় সাক্ষ্যই সমানভাবে তদন্ত করতে হবে।
বাসতিয়ান গ্রপ প্রসিকিউটরের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন কিনা তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময়, ট্রায়ালের সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর রনি স্টেনজেল হস্তক্ষেপ করে বলেন যে এটি "শুরু থেকেই স্পষ্ট" ছিল যে এই মামলার ন্যায্যতা প্রমাণের কোনও ভিত্তি নেই। তাই এলবিট সিস্টেমস ডয়েচল্যান্ড নিয়ে যেকোনও তদন্ত আইনিভাবে অপ্রাসঙ্গিক।
আদালতে বিভিন্ন বিবৃতিতে উল্ম৫ জোর দিয়ে বলেছে যে প্রতিটি ব্যক্তির প্রচেষ্টা এবং আরও বড় পরিসরে এই আন্দোলন পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে খুব কমই ভূমিকা রেখেছে—যেমন রাস্তায় নেমে আন্দোলন খুব কমই পরিবর্তন এনেছে। নেটওয়ার্ক তৈরিতে এবং ব্যক্তিদের নিজস্ব সক্ষমতায় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রেরণা ও সক্ষমতা তৈরিতে বিক্ষোভের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবুও বিক্ষোভের সরাসরি প্রভাবের ক্ষেত্রে জার্মানির পরিস্থিতি দেখলে মনে হতে পারে যে এই বিক্ষোভগুলো কিছুই করতে পারেনি: বার্লিনে (যেখানে উল্ম৫-এর প্রত্যেকে এই আন্দোলনের রাতের আগে বসবাস করতেন) পুলিশ নিয়মিতভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর বর্বরতা চালায়, যার ফলে কিছু ক্ষেত্রে গণহত্যা বিরোধী মানুষদের চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে হয়েছে। যেখানে জনমত জরিপ বলছে যে জার্মানির সাধারণ মানুষ ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির বিরুদ্ধে, সেখানে জার্মানির ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী দুটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে গঠিত "গ্র্যান্ড কোয়ালিশন" সরকার বর্তমান রাষ্ট্রীয় নীতি Staatsräson-কে অপরিবর্তনীয় হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর এই সরকারকে পরিবর্তনের সুযোগের ক্ষেত্রে, গ্র্যান্ড কোয়ালিশন কেবল অতি-ডানপন্থী এএফডি (AfD)-র কাছে হারতে পারে, যারা এই লেখার সময় ২৮% ভোট পেয়ে জরিপে এগিয়ে আছে।
সরাসরি আন্দোলনের বাইরেও, উল্ম৫ বিচারে সাজার যে প্রদর্শন করা হচ্ছে—যেমন দীর্ঘ সময় ধর্ম্যা প্রাক-বিচার অবস্থায় আটক, উল্ম৫-কে হাতকড়া পরা অবস্থায় প্রেসের সামনে হাজির করা এবং বিচারের এই ঐতিহাসিক স্থান (বিচারটি স্ট্যামহাইম কারাগার সংলগ্ন আদালত কক্ষে হচ্ছে, যেখানে ১৯৭০-এর দশকে পশ্চিম জার্মানির "বামপন্থী সন্ত্রাসবাদী" দল রেড আর্মি ফ্যাকশনের বিখ্যাত বিচার হয়েছিল: যা জার্মান জনগণের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা)—তা মূলত সাধারণ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি চেষ্টা যে তারা যদি নিজেরা গণহত্যা প্রতিরোধের চেষ্টা করে তবে কি ঘটতে পারে।
তবুও, গণহত্যার প্রেক্ষাপটে যারা পদক্ষেপ নেয় তাদের এই পরিণতির হুমকি জার্মানি এবং ব্রিটেনের মানবাধিকার রক্ষার ভণ্ডামিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে—যেখানে যুদ্ধোত্তর শীতল যুদ্ধের সময় এই দুই দেশের অন্যতম প্রধান পরিচয় ছিল মানবাধিকারের "রক্ষক" হিসেবে।
উল্ম৫ এবং ফিল্টন ২৫ যা করেছে তা আমাদের সকলকে আমাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। গণহত্যার প্রতি জার্মানির পক্ষপাত আরও কঠোর হচ্ছে এবং জার্মানির ন্যায়বিচারের ইতিহাসকে ধ্বংস করছে, যা আইনের আড়ালে বসে করা হচ্ছে। যদিও অতীতে জার্মানি গণহত্যা করতে আইন প্রয়োগের জটিল রূপ ব্যবহার করত, কিন্তু এখন তারা গণহত্যায় সহায়তা করছে। সাধারণ নাগরিক যখন নিজেকে একটি মৌলিক প্রশ্ন করে যে " ঐ জায়গায় আপনি হলে কি করতেন?" তখনই জার্মান পুলিশ নিজেদের বর্বরতা আড়াল করা, বিক্ষোভকারীদের দমন করা, বা অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের ভান করে আবার তা চালু করার মতো বিভ্রান্তিকর কৌশল ব্যবহার করে।
"কখনো না" শব্দটি "আবার করো"-তে পরিণত হয়েছে—এবং আজ জার্মান ও ব্রিটিশরা একসাথে কাজ করছে। গাজার গণহত্যা সরাসরি পদক্ষেপের চাহিদা তৈরি করেছে। পদক্ষেপ নেওয়ার পথগুলোকে সংকুচিত করা হচ্ছে, যা উল্ম৫ এবং ফিল্টন ২৫-এর ট্রায়ালের মাধ্যমে স্পষ্ট। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা ইতিহাসের এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে আমরাই আমাদের তৈরি নিয়ম অনুসরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছি। আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক দাবিগুলোকে উপেক্ষা করা হলেও সন্ত্রাসী ও অপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হওয়া মানুষদের সংবাদের মাধ্যমে গণহত্যা কনভেনশনের হুংকার আমাদের কানে পৌঁছে গেছে।
এখন কি করতে হবে তা সম্পূর্ণভাবে পাঠকদের ওপর নির্ভর করে। তবে লেখকের মতে, সংগঠিত হওয়া এবং জরুরি রিসোর্স বা জনবলকে একত্রিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, এবং এর মাধ্যমে এই অবৈধ ক্ষমতাকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করার চাহিদা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
