Imperialism

পুঁজি সঞ্চয়নের ক্ষেত্র হিসেবে কঙ্গো: এরিক প্রিন্স এবং যুদ্ধের বেসরকারীকরণ

এরিক প্রিন্সের প্রতিষ্ঠান 'ভেক্টাস গ্লোবাল' (Vectus Global) ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) খনিজ সমৃদ্ধ প্রধান অঞ্চলে নিজেদের গড়ে তুলেছে; যা কঙ্গোর জনগণের সার্বভৌমত্ব খর্ব করে সেখানকার অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও কর্পোরেট স্বার্থ চরিতার্থ করছে।
বেসরকারি সামরিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ব্ল্যাকওয়াটার'-এর প্রতিষ্ঠাতা এরিক প্রিন্স, একদল কাগুজে কোম্পানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ডেমোক্রেটিক assumptions রিপাবলিক অব কঙ্গোতে তাঁর কার্যক্রম বিস্তার করেছেন। যার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে কঙ্গোর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি পাঁচ বছর মেয়াদি ও প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তমা ও কোবাল্ট সমৃদ্ধ কাটাঙ্গা অঞ্চলে দুর্নীতি খাতের রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং খনিজ পাচার রোধের উদ্দেশ্যে এই চুক্তি করা হলেও, এর ভেতরে একটি গোপন সামরিক উদ্দেশ্য ছিল: কঙ্গোর সেনাবাহিনীকে পরামর্শ দেওয়া, আকাশপথ ও ড্রোন সক্ষমতা প্রদান করা এবং বিদেশি যোদ্ধা নিয়োগ করা।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে এরিক প্রিন্স-সংশ্লিষ্ট মিলিশিয়া বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি soccer খবরের পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়াজাগানো খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এরিক প্রিন্স হলেন একজন মার্কিন বিলিয়নেয়ার এবং কুখ্যাত সামরিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ব্ল্যাকওয়াটার'-এর প্রতিষ্ঠাতা, যার বিরুদ্ধে গ্লোবাল সাউথের (উন্নয়নশীল বিশ্ব) বেশ কয়েকটি দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও হত্যাকাণ্ডের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। একটি অতর্কিত হামলার পর এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে, যার ফলে বিখ্যাত ইউএফসি (UFC) অ্যাথলেট ও সাবেক মার্কিন সেনা স্পেশাল ফোর্সের সদস্য টিম কেনেডিসহ অন্তত ২০ জন নিহত ও আহত হন।

এরিক প্রিন্স হলেন একজন মার্কিন ব্যবসায়ী এবং সাবেক ইউএস নেভি সিল (Navy SEAL) সদস্য, যিনি ১৯৯৭ সালে 'ব্ল্যাকওয়াটার' প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে বিশ্বের অন্যতম কুখ্যাত ভাড়াটে সামরিক কোম্পানিতে পরিণত করেন। অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সেবা প্রদানের জন্য বেসরকারি সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতাকে তিনি নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে কাজে লাগান। রক্ষণশীল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিলসডেল কলেজে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ইউএস নেভি সিলে যোগ দেন। তাঁর ক্যারিয়ার মূলত বেসরকারি পুঁজিবাদী স্বার্থ এবং মার্কিন সামরিক সম্প্রসারণের পারস্পরিক যোগসূত্রকে ফুটিয়ে তোলে, যেখানে যুদ্ধ এবং সামরিক হস্তক্ষেপগুলো মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে পরিণত হয়। ২০১০ সালে ব্ল্যাকওয়াটার বিক্রি করে দেওয়ার পরও প্রিন্স ফ্রন্টিয়ার সার্ভিসেস গ্রুপসহ অন্যান্য কোম্পানি ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যান, যা আফ্রিকার বাণিজ্যিক ও খনি প্রকল্পগুলোতে লজিস্টিক ও নিরাপত্তা সেবা প্রদানে নিজেদের বিস্তার ঘটায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি 'ভেক্টাস গ্লোবাল'-এর মাধ্যমে নতুন শাখা খোলেন, যার কার্যক্রম ডিআরসি-তে খনিজ সম্পদের রাজস্ব সংগ্রহ থেকে শুরু করে কঙ্গো সেনাবাহিনীকে সরাসরি কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেডির অধীনে, বিদেশী সামরিক ঠিকাদার (ভাড়াটে সৈন্য) নিয়োগের একটি নথিবদ্ধ প্রচেষ্টা ২০২৩ সালের দিকে শুরু হয়েছিল। সেই সময়ে, রুয়ান্ডা সমর্থিত এম২৩ (M23) মিলিশিয়ারা নর্থ কিভু প্রদেশে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছিল এবং কঙ্গো সরকার তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ও পূর্বাঞ্চলের খনিজ সমৃদ্ধ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজছিল। এই প্রেক্ষাপটে, বিদ্রোহীদের অগ্রগতি রুখতে এবং খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর সুরক্ষা দিতে কলম্বিয়া, মেক্সিকো এবং আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় ২,৫০০ সামরিক ঠিকাদার আনার একটি পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করা হয়। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে প্রথম ব্যাচকে জায়গা দেওয়ার জন্য সাকের কাছাকাছি এবং কঙ্গো প্রটেকশন Training ক্যাম্পের সংলগ্ন মুবাম্বিরোতে ব্যারাক স্থাপন করা হয়। একই মাসে যন্ত্রপাতি বোঝাই কন্টেইনারগুলো সেই সাইটে পৌঁছায়। এই বিদেশী ঠিকাদারদের মোতায়েন করার আলোচনায় মূল নেতৃত্বে ছিলেন এরিক প্রিন্স। এই পরিকল্পনাটি প্রেসিডেন্ট শিসেকেডির উপদেষ্টা কাহুম্বু বুলা মান্দুঙ্গু (যিনি "কাও" নামে পরিচিত) দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল, যেখানে এই পরিকল্পনাটিকে কিনশাসা (কঙ্গোর রাজধানী) এবং আবুধাবির (ইউএই) মধ্যকার চুক্তির সাথে যুক্ত করার খবর পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত প্রজেক্টটি স্থগিত হয়ে যায় এবং ল্যাটিন আমেরিকান ঠিকাদাররা ডিআরসি-তে এসে পৌঁছায়নি।

২০২৪ সালের শেষের দিকে এরিক প্রিন্স কঙ্গোর দৃশ্যপটে আবারও ফিরে আসেন, তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পন্থায়। খনি খাত থেকে সরকারি রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং তমা ও কোবাল্ট সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোতে খনিজ পাচার রোধ করার উদ্দেশ্যে তিনি কঙ্গো সরকারের সাথে একটি চুক্তি করেন। সরকার বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক কাগুজে কোম্পানির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রিন্সের সাথে এই পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। ২০২৫ সালের জুনে, প্রিন্সের সাথে সম্পৃক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'কোয়ান্টাম গ্লোবাল কনসাল্টিং', তাদের আইনি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য ডিআরসি-তে 'কোয়ান্টাম গ্লোবাল কনসাল্টিং আফ্রিকা' নামে একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করে। এই অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে 'ভেক্টাস গ্লোবাল'-কে একটি স্থানীয় আইনি সত্তা বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত করে। কঙ্গোর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে করা এই চুক্তিতে খনিজ উত্তোলন শিল্প থেকে সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পাচার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকি রোধ করার একটি আর্থিক আদেশ বা ম্যান্ডেট অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে, এর ভেতরে একটি গোপন সামরিক উদ্দেশ্যও ছিল: কঙ্গোর সশস্ত্র বাহিনীকে পরামর্শ দেওয়া, আকাশপথের সামরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি সামরিক কর্মকর্তা ও কর্মী নিয়োগ করা। পাঁচ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মূল্যমান ছিল আনুমানিক ৭০০ মিলিয়ন ডলার।

শুরুর পরিকল্পনা অনুযায়ী খনির কার্যক্রম ও রাজস্ব পর্যবেক্ষণ করতে প্রায় ১০০ জন উপদেষ্টা ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা ছিল, যা প্রথমে বড় বড় খনিগুলো দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করার কথা ভাবা হয়। এর লক্ষ্য ছিল খনিজের উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর নজরদারি জোরদার করা এবং কঙ্গো সরকারের জন্য আইনি পরিপালন নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল কাটাঙ্গা অঞ্চলকে, বিশেষ করে তমা ও কোবাল্ট শিল্পের মূল কেন্দ্র কোলওয়েজি শহরের আশেপাশের এলাকাগুলোকে। এই অঞ্চলটি নর্থ কিভুর মূল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেকটাই দূরে ছিল, যেখানে এম২৩ মিলিশিয়ারা সক্রিয় ছিল।

২০২৫ সালের শেষের দিকে এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে একটি বড় ধরনের মোড় ঘোরে, যখন পূর্ব কঙ্গোর যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং তা সাউথ কিভুর কৌশলগত এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিটি আরও মারাত্মক রূপ নেয় যখন এম২৩ মিলিশিয়ারা তানগানইকা হ্রদের তীরে বুরুন্ডি সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর 'উভিরা' দখল করে নেয়। এটি কিনশাসা সরকারের জন্য এক চরম হুমকি তৈরি করে। এর জবাবে, এরিক প্রিন্স 'ভেক্টাস গ্লোবাল'-এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে কঙ্গো সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি টিম মোতায়েন করেন। এই টিমের কাজ ছিল ড্রোন পরিচালনা করা এবং সরকারি বাহিনীকে কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ে সহায়তা দেওয়া; যা ডিআরসি-র অভ্যন্তরে সম্মুখ সমরে প্রিন্সের বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণের প্রথম জানা দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।

কঙ্গোতে বিদেশি সামরিক ঠিকাদারদের তৎপরতা শুধু মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইসরায়েলি সামরিক উপদেষ্টারা প্রিন্সের সাথে সমন্বয় করে কাজ করেছেন এবং দিন ও রাতের অপারেশনের জন্য কঙ্গোর দুটি স্পেশাল ফোর্সেস ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া এল সালভাদর থেকেও সামরিক ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই ছিল সাবেক সামরিক ও police বাহিনীর সদস্য। 'ক্রিটিক্যাল থ্রেটস প্রজেক্ট'-এর ২০২৬ সালের জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই বছরের এপ্রিলে কঙ্গো সরকার ২০,০০০-এরও বেশি সদস্যের একটি আধাসামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণে অর্থায়নের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেছিল—যার দৃশ্যমান উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলের খনিগুলোর সুরক্ষা দেওয়া। এর দুই মাস আগে, সংযুক্ত আরব আমিরাত লুয়ালাবা প্রদেশে একটি সরকারি ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল, যারা কোলওয়েজিতে খনি, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে এবং এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৬টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের ঘোষণা আসে।

প্রিন্স হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন কট্টর সমর্থক এবং কঙ্গোতে তাঁর কোম্পানির কার্যক্রম ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্দেশ্যের সাথে গভীরভাবে জড়িত। তাঁর বাহিনীকে এমন এক সময়ে মোতায়েন করা হয়েছিল যখন ট্রাম্প প্রশাসন কিনশাসার সাথে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে যুক্ত করে অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যাপক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। এটিকে এম২৩-কে পরাজিত করার চেয়ে বরং চীনা প্রভাবকে মোকাবেলা করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে রূপ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের ২ মার্চ, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং তাদের চারজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই বছরের ২৫ জুন, তারা রুয়ান্ডার একটি স্বর্ণ শোধনাগার এবং এম২৩-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা কঙ্গোর ভূখণ্ড থেকে খনিজ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত একটি নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তা সত্ত্বেও, এই পদক্ষেপগুলো পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোকে ভেঙে দিতে, সংঘাতের সমাধান করতে, মিলিশিয়াদের নৃশংসতা থামাতে বা এম২৩-এর অগ্রগতি সচল রাখা রুয়ান্ডার গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়। একটি 'Washington Post' অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, পল কাগামে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সাথে যোগাযোগ করে সফলভাবে এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছিলেন, যিনি এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সাথে মধ্যস্থতা করেছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে গ্রাহাম ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন—যা আগে 'Wall Street Journal'-ও প্রকাশ করেছিল—এবং এটি মার্কিন চাপের সীমাবদ্ধতাকেই ফুটিয়ে তোলে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই উচ্চ-পর্যায়ের political যোগাযোগ কাগামেকে কিছুটা সময় বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।

মার্কিন-কঙ্গো চুক্তির মাধ্যমে 'স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট রিজার্ভ' (Strategic Asset Reserve) নামক একটি প্রক্রিয়া বা মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কাঠামোর অধীনে, আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত প্রজেক্টগুলোর ওপর 'রাইট অব ফার্স্ট রিফিউজাল' (প্রথমে সুযোগ নেওয়ার অধিকার) এবং কঙ্গোর খনিজ খাতে নির্দিষ্ট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে, 'Reuters' একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বিস্তারিত দেখানো হয় কীভাবে 'ভার্চুস মিনারেলস' নামক একটি মার্কিন কোম্পানি ৩০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে 'শেম্যাফ' (Chemaf)-এর খনি সম্পদ কিনে নেয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মুতান্ডা এবং কামাতো কপার কোম্পানির খনির ৪০% শেয়ার ওরিয়ন ক্রিটিক্যাল মিনারেল কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রি করার একটি প্রস্তাবিত চুক্তি সামনে আসে, যা মার্কিন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (DFC) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'ADQ' ফান্ডের সমর্থিত ছিল। এই চুক্তিগুলো কঙ্গোর তমা ও কোবাল্ট সম্পদের ক্ষেত্রে মার্কিন এবং আমিরাতি বিনিয়োগকারীদের বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। মার্কিন উদ্দেশ্যের সবচেয়ে স্পষ্ট সূচক হলো 'লোবিটো করিডোর' (Lobito Corridor) প্রজেক্ট, যা কঙ্গো এবং জাম্বিয়ার খনি অঞ্চলগুলোকে অ্যাঙ্গোলার মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের লোবিটো বন্দরের সাথে যুক্ত করে। আমেরিকা উন্নয়ন অর্থায়ন এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রজেক্টটিকে সমর্থন করে, যার লক্ষ্য হলো পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে যুক্ত বা চীনা কোম্পানিগুলোর আধিপত্য থাকা বাণিজ্য নেটওয়ার্কগুলোকে এড়িয়ে পশ্চিমা বাজারে কঙ্গোর তমা ও কোবাল্ট রপ্তানির একটি বিকল্প পথ তৈরি করা।

এরিক প্রিন্স এবং তাঁর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকরা কিন্তু কঙ্গোর জনগণের জন্য এমন কোনো ত্রাণকর্তা নন যাদের জন্য তারা মিলিশিয়াদের সহিংসতা এবং রুয়ান্ডার হস্তক্ষেপ বন্ধের অপেক্ষা করছে। নিরাপত্তা ও সামরিক সেবার জন্য কঙ্গো সরকার যে লোকটিকে ভাড়া করেছে, তিনি কোনো নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নন এবং এই সংঘাতগুলোকে যারা উস্কে দেয় ও তা থেকে মুনাফা লোটে, তাদের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করার মতো মানুষও তিনি নন। তিনি এমন একজন অপরাধী যিনি পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক স্বার্থ, যুদ্ধের বেসরকারীকরণ এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য রক্ষার পারস্পরিক যোগসূত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করেন। এটি কেবল কোনো অনুমান নয়; তাঁর নিজস্ব পডকাস্ট 'অফ লিশ' (Off Leash)-এর একটি পর্বে প্রিন্স স্পষ্টভাবে আমেরিকাকে আবারও সরাসরি সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, এখন সময় এসেছে "সাম্রাজ্যবাদী টুপিটি আবারও মাথায় দেওয়ার" এবং যেসব দেশ নিজেদের শাসন করতে অক্ষম বলে তিনি দাবি করেন, সেগুলোকে শাসন করার। যখন তাঁর সহ-উপস্থাপক মার্ক সেরানো উল্লেখ করেন যে এটি শুনতে উপনিবেশবাদে (Colonialism) ফিরে যাওয়ার আহ্বানের মতো শোনায়, প্রিন্স সরাসরি উত্তর দিয়েছিলেন: "একেবারে, হ্যাঁ!"

ক্রিবসু ডিয়ালো হলেন কায়রো-ভিত্তিক একজন প্যান-আফ্রিকানবাদী গবেষক, যিনি আফ্রিকান বিষয়াবলী সংক্রান্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন। তিনি বহু আফ্রিকান সাময়িকী ও সংবাদপত্রে লিখেছেন এবং ডিয়ালো আফ্রিকান মহাদেশের বেশ কয়েকটি গবেষণা কেন্দ্রের জন্য আরবি ও ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন গবেষণাপত্র ও নিবন্ধের অনুবাদ সংস্করণে অবদান রেখেছেন।

Available in
EnglishSpanishPortuguese (Brazil)GermanFrenchItalian (Standard)TurkishArabicBengaliRussian
Author
Kribsoo Diallo
Translators
Selina Begum and ProZ Pro Bono
Date
03.11.2026
Source
Black Agenda Report (BAR)Original article🔗
ImperialismWar & Peace
Progressive
International
Privacy PolicyManage CookiesContribution SettingsJobs
Site and identity: Common Knowledge & Robbie Blundell