Entrevistas

নিউ ইয়র্কের নার্সদের নজিরবিহীন ধর্মঘট

নিরাপদ কর্মী-অনুপাত, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা থেকে সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুবিধা কর্তন বন্ধ করার দাবিতে নিউ ইয়র্ক সিটির ১৫,০০০ নার্স ধর্মঘট করছেন।
এই সাক্ষাৎকারে ধর্মঘটরত নার্সরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনমনীয়তা এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দরকষাকষির চিত্র তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে, কর্মবিরতি শুরুর আগে কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নজরদারি বাড়িয়ে দেওয়া। নার্সরা আরও ব্যাখ্যা করেছেন কেন এই ধর্মঘট কাঠামোগত কর্মী-সংকটের বিরুদ্ধে একটি প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ এবং ইউনিয়নগুলোকে দুর্বল করার জাতীয় প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এক লড়াই, যা এমন এক হাসপাতাল পরিবেশের কথা বলে, যেটি পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা এবং শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

গত ১২ জানুয়ারি, সোমবার, নিউ ইয়র্ক সিটির তিনটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রায় ১৫,০০০ নার্স ধর্মঘট শুরু করেছেন। নিউ ইয়র্ক স্টেট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (NYSNA) এর প্রতিনিধিত্বকারী নার্সরা মন্টেফিওর আইনস্টাইন মেডিকেল সেন্টার, মাউন্ট সিনাই হেলথ সিস্টেম এবং নিউ ইয়র্ক-প্রিসবিটেরিয়ান হাসপাতালের একাধিক ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি পালন করছেন, যা শহরের ইতিহাসে বৃহত্তম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় নার্স ধর্মঘট।

নার্সদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মূল প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে অসহযোগিতা করছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ কর্মী-অনুপাত নিশ্চিত করা; নার্সদের মতে, কর্মী-সংকটের কারণে তারা প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপের শিকার হচ্ছেন এবং রোগীদের সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া তারা কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা থেকে সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা কাটছাঁট করার চেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।

'জ্যাকোবিন' (Jacobin)-এর কন্ট্রিবিউটর সারা ওয়েক্সলার মাউন্ট সিনাইয়ের মৰ্নিংসাইড ক্যাম্পাসে পিকেট লাইনে নার্সদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নার্সদের চুক্তির মূল প্রস্তাবসমূহ, দরকষাকষি ব্যর্থ হওয়ার কারণ এবং কর্তৃপক্ষের ইউনিয়ন-বিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই নিয়ে কথা বলেন।

সারা ওয়েক্সলারঃ আপনারা আজ সবাই ধর্মঘট করছেন কেন?

সিমোন ওয়েঃ আমরা বর্তমানে ধর্মঘট করছি কারণ আমাদের নিয়োগকর্তারা তাদের নার্সদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার গ্যারান্টি দেবে না। তারা আমাদের পেনশনের নিশ্চয়তা দেবে না। তারা এখানে কর্মরত সকল কর্মীর জন্য কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেবে না।

তারা নার্সদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের নিশ্চয়তা দেবে না। এছাড়া, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে যখন কর্মীর সংখ্যা কম থাকে, তখন নার্সরা ভুল করে এবং রোগীর যত্ন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আমাদের দেওয়া কোনো মজুরি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে না।

ইয়াশিরা মার্টিনেজঃ আমরা এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের জন্য লড়ছি। এটি অন্যায্য যে জরুরী বিভাগের জন্য আমাদের রোগী-নার্স অনুপাত পর্যাপ্ত নয়। তাই আমরা রোগীদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছি। আমরা শিফট শেষে আমাদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য এবং আমাদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলো আগের মতো রাখার জন্য লড়াই করছি। আমাদের এমন নার্সরা আছেন যারা অবসরের কাছাকাছি, তারা এখানে প্রতিদিন লড়াই করছেন যাতে তাদের ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা পেনশনগুলো চালু থাকে।

আমরা অবশ্যই মজুরির জন্যও লড়ছি কারণ নিশ্চিতভাবেই আমাদের কাজের চাপের তুলনায় বেতন কম দেওয়া হয়। ইআর (ER) নার্স হওয়া আমার স্বপ্ন ছিল এবং আমি তাতে তৃপ্ত। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হলে, আমাদের গুরুত্ব দেওয়া হলে এবং আমরা একটি ন্যায্য চুক্তির অধীনে নিয়ে আসা হলে আরও ভালো লাগত।

মারভিন ডানকানঃ কাজের পরিবেশ এবং রোগীর নিরাপত্তার অভাব আমাদের সত্যিই কষ্ট দিচ্ছে। এই কারণেই আমরা আজ এখানে এবং সম্ভবত পুরো সপ্তাহ থাকব, যাতে আমরা রোগীদের সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি, যা রোগ নিরাময়ে সহায়ক এবং এই জনপদের রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের জন্য উপযোগী।

একজন নার্স ট্রমা রোগীদের সেবা করার পাশাপাশি পনেরোজন রোগীর যত্ন নিচ্ছেন, এটি আমি কল্পনাও করতে পারি না। রোগী এবং নার্সদের অনুপাত যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত, এমন নয় যা তাদের লাইসেন্সকে ঝুঁকিতে ফেলে।

সারা ওয়েক্সলারঃ এই অবস্থা সৃষ্টির আগে পর্যন্ত চুক্তির আলোচনা কোন পর্যায়ে ছিল?

শেলা ডমিঙ্গুয়েজঃ আমরা গত সেপ্টেম্বরে আলোচনা শুরু করেছিলাম। নিয়োগকর্তারা আমাদের অনেক বিষয়ে সম্মতি দেননি। পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের মতো অনেক বিষয় এখনও আলোচনার টেবিলে পড়ে আছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা আমাদের খুব প্রয়োজন, কারণ শুধু নার্স নয়, হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীরাও কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

নিয়োগকর্তারা মাঝে মাঝে দরকষাকষির সময় দীর্ঘ বিরতি নেন, আমরা দুই থেকে তিন ঘণ্টা তাঁদের অপেক্ষায় আলোচনার টেবিলে বসে থাকি। আর আলোচনার শেষ কয়েকদিন কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে বসে কথাই বলেনি।

সিমোন ওয়েঃ আমাদের ম্যানেজমেন্টের সাথে আলোচনার টেবিলে বসাটা ছিল খুব কৌতূহলোদ্দীপক। আমরা সেপ্টেম্বরে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করি। কিন্তু কর্মী নিয়োগ এবং লেবার ইস্যু নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের প্রতি মাসেই মিটিং হয়। নিউ ইয়র্ক স্টেটের নিয়মানুযায়ী একটি মিটিং বাধ্যতামূলক, আর বাকিগুলো ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির নার্স হিসেবে আমরা অংশগ্রহণ করি।

যখন আমরা প্রতি মাসে ম্যানেজমেন্টের সাথে বসি, তখন একই ধরনের অনেক সমস্যা উঠে আসে। আমরা প্রতি মাসে কর্মী স্বল্পতা নিয়ে কথা বলি। আমরা বিভিন্ন ইউনিটের নার্সদের সশরীরে হাজির করি, যারা তাদের ইউনিটের পরিস্থিতির সাক্ষ্য দেয়। আমরা ওই ইউনিটগুলোতে কর্মী বাড়ানোর দাবি জানাই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা নার্সদের জন্য করা হয়, তবে এটি অন্যান্য সহায়ক কর্মীদের জন্যও হতে পারে, যেমন সেইসব অ্যাটেনডেন্ট যারা আমাদের কাজ করতে সাহায্য করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের দিকে এমনভাবে তাকায় যেন আমাদের তিনটি মাথা। আমরা আলোচনার টেবিলে যে বিষয়গুলি নিয়ে আসি সেগুলোর কোনো উত্তর তাদের কাছে থাকে না; তারা সেগুলো সমাধান করে না।

তাই এই পর্যায়ে পৌঁছানো তাদের জন্য কোনো নতুন বিষয় নয়। আমরা কেবল সারা বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা বিষয়গুলোই তাদের কাছে আলোচনার সময়ে উপস্থাপন করেছি, এই আশায় যে কোনো সমাধান আসবে, কিন্তু তারা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেনা। যে বিষয়ে আর্থিক খরচের ব্যাপার আছে, তারা তা নিয়ে কথা বলবে না। যখন আমরা আরও বেশি কর্মী নিয়োগের কথা বলি, তাদের উত্তর হয়: "এটি অর্থনৈতিক বিষয়, আর আমরা অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে কথা বলছি না।" যদি আমরা কোনো অ-অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলি, তবে একটি ছোট বিষয় ঠিক করতেই দুই থেকে তিন সেশন লেগে যায় এবং তারা প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায়। আমরা তাদের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম "নন-নার্সিং ফাংশন" (নার্সিং বহির্ভূত কাজ) নিয়ে: নার্সরা এমন অনেক কাজ করে সময় নষ্ট করে যা আমাদের করার কথা নয়, কারণ হাসপাতালে সেগুলো করার জন্য আলাদা লোক আছে, যেমনঃ নার্সরা বিছানা পরিষ্কার করে। এটি এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিসের কাজ। তাহলে নার্সরা এগুলি কেন করবে? আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এটি নিয়ে কথা বলেছি। তিনটি সেশনে আলোচনা করার পর তারা একমত হতে পারেনি। তারা "অথবা" শব্দটি নিয়ে আটকে ছিল। আমরা লিখেছিলাম যে জরুরি অবস্থা ছাড়া আপনি এটি করতে পারবেন না, আর তারা সেই "অথবা" শব্দটি যোগ বা বিয়োগ করা নিয়ে দ্বিমত করছিল। এর ওপর তারা তিনটি সেশন নষ্ট করেছে। ম্যানেজমেন্ট সকাল ১০টায় আসে, দুপুরে আমরা তাদের কাছে প্রস্তাব দেই, তারপর তারা বলে, "আমরা দুপুরের খাবার খেতে যাচ্ছি; আমরা নিজেরা আলোচনা করব।" এরপর তারা দুপুর ২টায় ফিরে আসে এবং ৩টায় চলে যায়, কারণ একজন দাবি করে, "আমার মিটিং আছে।" কোনো একজনের মিটিং থাকে, আর তারা সবাই চলে যায় কোনো সমাধান ছাড়াই এবং ৫টায় আমাদের ফোন করে বলে, "আমরা আর ফিরছি না।"

তাই আমরা হয়তো দুই থেকে তিন ঘণ্টা কার্যকর কথা বলার সুযোগ পাই, কিন্তু কিছুই হয় না। সেপ্টেম্বর থেকে তারা এটাই করে আসছে। এটিই তাদের কাজের ধরন।

তাই মহিলা গভর্নর যখন বলেন, "নার্সদের আলোচনা করা উচিত এবং হাসপাতালের উচিত নার্সদের সাথে আলোচনা করা," তখন তিনি আসলে জানেন না তিনি কী বলছেন। আমরা প্রতিদিন সময়মতো আসি এবং দেরি করে ফিরি। আমরা রাত আটটা বা নয়টায় বের হই। কর্তৃপক্ষ তার আগেই চলে যায় এবং তারা আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করে না, এমনকি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও নয়।

এই নার্সদের জন্য ধর্মঘট ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তারা আমাদের এই পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে, কারণ তারা কোনো বিষয়েই কথা বলতে চায়না। তারা কেবল আমাদের স্বাস্থ্য সুবিধা কমানোর কথা বলতে চায়। আর আমরা যদি তাতে রাজি হই, তবে তা নিউ ইয়র্ক স্টেটের জন্য একটি নজির হয়ে থাকবে যে বড় কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্য সুবিধা কেটে নিতে পারে।

সারা ওয়েক্সলারঃ এই ধর্মঘটের এই পর্যায়ে আসা পর্যন্ত সাংগঠনিক কাজগুলো কেমন ছিল? আপনারা কীভাবে নিজেদের মধ্যে সংগঠিত হলেন যে এখন ১৫,০০০ নার্স এক হয়েছেন?

শেলা ডমিঙ্গুয়েজঃ আমরা যখন আলোচনা শুরু করি, তখন নার্সদের সম্পৃক্ত করি। ইউনিয়নের একটি 'কন্ট্রাক্ট অ্যাকশন টিম' আছে যারা আলোচনা শুরুর পর থেকে সপ্তাহে একবার করে বসত; এর আগে মাসে একবার বসত। আলোচনা শুরুর পর থেকে আমরা সপ্তাহে একবার করে বসতাম। আমরা আলোচনার বিষয়গুলো এই টিমের কাছে জানাতাম যাতে তারা আমাদের সহকর্মী নার্সদের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে পারে।

আমরা আলোচনাকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করেছি। আমরা প্রতিটি নার্সের জন্য জুম লিঙ্ক খুলে দিয়েছি এবং সবাইকে সশরীরে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করেছি। যারা কাজ করার কারণে আসতে পারেনি, তারা জুমের মাধ্যমে পুরো আলোচনা শুনতে উৎসাহিত করেছি।

সিমোন ওয়েঃ কন্ট্রাক্ট অ্যাকশন টিম প্রতিটি ইউনিট থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে গঠিত। আমরা চেষ্টা করি প্রতিটি ইউনিট থেকে অন্তত তিন বা চারজন নিতে। যত বেশি, তত ভালো - এটাই আমরা মনে করি। এক্সিকিউটিভ টিমের সাথে আমাদের প্রতি সপ্তাহে মিটিং হয়, কিন্তু ধর্মঘটের সময় যত ঘনিয়ে আসছিল, আমরা প্রয়োজনে প্রতিদিন মিটিং করেছি। এক্সিকিউটিভ টিম টেবিলে যা ঘটছে তার তথ্য অ্যাকশন টিমকে দেয় যাতে তারা তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারে - তা মৌখিকভাবে হোক বা গ্রুপ চ্যাট, টেক্সট মেসেজ, ফ্লায়ার বা হ্যান্ডআউটের মাধ্যমে।

শুধু তাই নয়, আমরা কন্ট্রাক্ট অ্যাকশন টিমকে যে তথ্য দেই, তার বাইরেও আমরা সাপ্তাহিক এবং সম্প্রতি প্রতিদিন মিটিং করছি, যার নাম "লেবার বার্গেনিং ইউনিট"। এটি সমস্ত সদস্যদের নিয়ে গঠিত। আমাদের হাসপাতালের প্রতিটি নার্স যারা NYSNA-এর সদস্য, তাদের জুম কলে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেদিন আমাদের কলে ৭০০ থেকে ৮০০ নার্স ছিল, কারণ তারা জানতে চায় কী ঘটছে। আমাদের সকল সদস্যবৃন্দ তাদের কার্যনির্বাহী দলের সাথে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন এবং বর্তমান ঘটনাবলী সম্পর্কে আমরা তাদের অবগত করছি।

মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই প্রচেষ্টাটি অত্যন্ত ব্যাপক, তবে এটি কেবল একটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। যখন সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয় আসে, তখন আমাদের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। মাঝে মাঝে আমি লাঞ্চ ব্রেকে আমার কন্ট্রাক্ট অ্যাকশন টিমের সাথে দেখা করেছি। আমি বলেছি, "চলো সবাই এই সময়ে লাঞ্চ করি, আমি সবার জন্য পিৎজা কিনব এবং আমরা পরিকল্পনা করব।"

আমরা এটাই করি কারণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের যোগাযোগ বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। তারা চায় না ব্রেক টাইম ছাড়া আমরা অন্য ইউনিটে গিয়ে কোনো তথ্য দিই। এমনকি ব্রেক টাইমেও আমার হাসপাতালের ডিরেক্টররা আমাকে সাধারণ খাম হাতে ঘুরতে দেখে জিজ্ঞেস করেছেন, "সিমোন, এই খামে কী?" আমি বলেছি, "আপনার পকেটে কী? আপনি আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন?"

তারা বলে, "আমি শুধু ভাবছিলাম ভেতরে কী আছে। আজ তুমি কোথায় যাচ্ছ?" আমি বলি, "আমার কাজ আছে। মনে রাখবেন, আমি একজন NYSNA প্রতিনিধি। তার মানে আমার নার্সদের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব আছে।" আমি শুধু এটুকুই বলি কারণ তারা জানতে চায় আমি কোন ইউনিটে যাচ্ছি যাতে তারা সেখানকার ম্যানেজারকে ফোন করে আমার কথা সত্যি কি না তা যাচাই করতে পারে।

তারা আমাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করছে, আমরা কি করছি তার উপর নজরদারি করার চেষ্টা করছে। তারা আমাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে এবং আমরা সেটি চালিয়ে যেতে দিতে পারিনা। তারা এই ইউনিয়ন ভাঙতে চায়। আমি বিশ্বাস করি এটি ইউনিয়ন ভাঙার একটি জাতীয় প্রচেষ্টা।

ইয়াশিরা মার্টিনেজঃ সংগঠিত হওয়া আমাদের অনেকের জন্যই ভয়ের ছিল। কয়েক মাস আমরা আতঙ্কে ছিলাম: প্রতিশোধের ভয়, স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার ভয়, বেতন না পাওয়ার ভয় এবং সর্বোপরি আমাদের কথা কেউ শুনবে না এই ভয়। NYSNA আমাদের তথ্য এবং আইনি অধিকার সম্পর্কে জানিয়ে চমৎকার কাজ করেছে, যা আমাদের এতদিন ধরে টিকে থাকার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

মারভিন ডানকানঃ এই সিস্টেমে নতুন নার্স হওয়ায় আমি আগে কখনও ধর্মঘটে যাইনি, কিন্তু NYSNA আমাদের ভয় দূর করতে পেরেছে। বেতন না পাওয়া সত্ত্বেও তারা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করেছে কারণ আমরা জানি আমরা কিসের জন্য লড়ছি - রোগীর আরও ভালো নিরাপত্তা এবং যত্নের জন্য।

সারা ওয়েক্সলারঃ ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর ম্যানেজমেন্টের প্রতিক্রিয়া কেমন? সদস্যদের ওপর কি কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

সিমোন ওয়েঃ আমাদের কিছু হাসপাতালে ধর্মঘট নিয়ে অবশ্যই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রধান হাসপাতাল ক্যাম্পাসে NYSNA-এর প্রতিনিধিত্বকারী নির্বাহী কমিটির প্রায় সবাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং বহিষ্কারের সম্মুখীন হয়েছেন। এই হাসপাতালে, আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, তবে আমি এটা বলতে পারি যে এই সময়ের মধ্যে কিছু নার্সদের বিপক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়ার দশ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ নার্সদের বিভিন্ন কারণে শাস্তি দিতে খুব তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা জানে নার্সরা সঠিক প্রতিনিধিত্ব পাবে না কারণ আমরা যারা সাধারণত শুনানিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব করি, তারা এখন আলোচনায় ব্যস্ত। নার্সদের সঠিক তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ইউনিয়ন প্রতিনিধির প্রয়োজন হয় - উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ অভিযোগ করেন যে কোনো নার্স করিডোরে কারো সাথে তর্কে জড়িয়েছেন, আমাদের তা তদন্ত করতে হয়। এমনকি আপনি কখন কাজে এসেছেন - এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেও তদন্তের প্রয়োজন পড়ে। এর মধ্যে কিছু বিষয় সামান্য হতে পারে, কিন্তু সেই সামান্য পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মৌখিক বা লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে অথবা তদন্ত চলাকালীন সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে।

তারা এমনভাবে এগুলো করে যে সরাসরি একে ইউনিয়ন কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করা কঠিন, কিন্তু এই সময়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনেক বেড়ে গেছে। আমরা সরাসরি এটা বলতে পারছি না যে, আমরা ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়ার কারণে বা নার্সরা কর্মবিরতিতে যাওয়ার কারণে এরকম হচ্ছে, তবে আমরা এটা বলতে পারি যে, এটা একটু বেশি বেশি হচ্ছে - এক পর্যায়ে NYSNA-কে হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করে বলতে হয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। যদি নার্স বা ম্যানেজারদের বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রতিনিধির প্রয়োজন হয়, তাহলে সেগুলি স্থগিত করতে হবে। সকল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বন্ধ থাকতে হবে, কারণ আমরা আলোচনায় ব্যস্ত থাকায় নার্সদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি না।

শেলা ডমিঙ্গুয়েজঃ ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়ার সাথে সাথেই কর্তৃপক্ষ আমাদের ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের চিঠি পাঠিয়েছে যে, তারা আর হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে পারবে না। কার্যনির্বাহী কমিটি হিসেবে আমাদের সদস্যদের মাঝে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে। সেই সাথে, কমিটির সদস্যদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে যাতে আমরা আমাদের ছুটির দিনে বা বিরতির সময়ে হাসপাতালে না আসি এবং নিজেদের কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোনো ইউনিটে না যাই; কারণ এর ফলে আমাদের শাস্তির ভোগ করতে হতে পারে।

সিমোন ওয়েঃ বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য সেলাকে অভিনন্দন, কারণ আমি বলতে ভুলে গেছিলাম যে, NYSNA-এর বেতনভুক্ত কর্মচারীদের বলা হয়েছে তারা বিল্ডিংয়ে ঢুকতে পারবে না, বিল্ডিংয়ে ঢুকলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এটি একটি ইমেইলের মাধ্যমে জানানো হয়। এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের বলা হয়েছে যে হাসপাতালের কর্মচারী হলেও, ডিউটি ছাড়া অন্য সময়ে হাসপাতালে পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি সরাসরি হুমকি।

সারা ওয়েক্সলারঃ আপনারা যে হাসপাতালের জন্য লড়ছেন, সেটি দেখতে কেমন হবে?

সিমোন ওয়েঃ আমার কাছে সেটি হবে নার্সদের প্রতিদিনের কাজের প্রতি সত্যিকারের সহযোগিতা এবং সম্মানের একটি জায়গা। যেখানে রোগীদের সাথে আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করার সুযোগ থাকবে। আমাদের বসরা জানতে চাইবেন আমরা কী ভাবছি এবং আমরা যে তথ্যগুলি দিচ্ছি সেগুলি বাস্তবসম্মত কিনা প্রতিষ্ঠানটিকে রোগীদের জন্য আরও ভালো করার কাজে ব্যবহার করবেন।

যখন নার্সরা মনে করেন তাদের কথা শোনা হচ্ছে এবং তাদের সম্মান করা হচ্ছে, তখন তারা কাজে আসতে আগ্রহী হন। তারা কাজ উপভোগ করেন এবং তা রোগীদের যত্নে প্রতিফলিত হয় এবং এটি রোগীদের জন্য আরও ভালো হবে।

শেলা ডমিঙ্গুয়েজঃ সিমোনের সাথে যোগ করি: আরও বেশি কর্মীনিয়োগ, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা। আমাদের অনেক সহকর্মী কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার স্বীকার হয়েছে। এর কারণে তারা কয়েক সপ্তাহ বা কখনো কখনো কয়েক মাস কাজে আসতে পারেনি। উন্নত স্বাস্থ্য সুবিধা এবং আমাদের অবসরপ্রাপ্ত নার্সদের জন্য পেনশনের সুবিধা - এমনটাই আমরা চাই।

ইয়াশিরা মার্টিনেজঃ সেখানে রোগী-নার্সের অনুপাত পর্যাপ্ত থাকবে। সেখানে থাকবে আমাদের প্রাপ্য মজুরি। সেখানে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলো অন্তত বর্তমানের মতো থাকবে। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অথবা অবসরকালীন ভাতার কোনো পরিবর্তন করা হবে না। এর মানে হলো অবসরের বয়সে পৌঁছে বা জীবনের সেই পর্যায়ে গিয়ে নিরাপদ বোধ করা এবং বলতে পারা, "আমি ও আমার পরিবার নিরাপদ।"

এর মানে কর্মক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থেই নিরাপদ থাকা, আক্রান্ত না হওয়া - আর আক্রান্ত হলেও কর্তৃপক্ষ এবং পুরো কর্পোরেশনের সমর্থন পাওয়া। এর মানে হলো নার্সদের বিরতির ব্যবস্থা (অন্যদের বিরতির সময় রোগীদের দেখাশোনা করার জন্য অন্য নার্স) থাকা। জরুরী বিভাগের জন্য এর মানে হলো, আরও নিরাপদ পরিবেশ। এর মানে আমরা ক্লান্ত হব না। ছুটির দিনে আমরা পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারব, এক শিফটের ক্লান্তির জন্য দুই দিন বিশ্রাম নিতে হবে না।

এর মানে হলো আমরা মন থেকে বলতে পারব, "আজ আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়েছি এবং রোগীদের উপকারে এসেছি।" এমন নয় যে, "হায় খোদা, আমি এই রোগীকে দেখতেই পারিনি কারণ আমার আরও ১৭ জন রোগী ছিল।" এটি অন্যায্য এবং আমরা কেবল ন্যায়বিচার খুঁজছি।

Available in
EnglishSpanishPortuguese (Brazil)GermanFrenchItalian (Standard)TurkishArabicRussianBengali
Author
Sara Wexler
Translators
Ashraful Makhlukat Miran and ProZ Pro Bono
Date
12.02.2026
Source
JacobinOriginal article🔗
EntrevistasLong ReadsLaborUnited States
Progressive
International
Privacy PolicyManage CookiesContribution SettingsJobs
Site and identity: Common Knowledge & Robbie Blundell