Politics

ফ্রান্সে ফিলিস্তিনপন্থী আইনপ্রণেতাকে চুপ করাতে লফেয়ার(আইনের দ্বারা কাউকে হেনস্থা করা) ব্যবহৃত হচ্ছে

MEP রিমা হাসান ফিলিস্তিনিদের ওপরে দখলদারিত্ব প্রতিরোধের অধিকারের পক্ষে সওয়াল করায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
MEP (ফ্রান্সের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য) রিমা হাসান ফিলিস্তিনি আত্মরক্ষা সংক্রান্ত একটি মুছে ফেলা টুইটকে কেন্দ্র করে "সন্ত্রাসবাদের পক্ষপাত" আইনের আওতায় অভিযুক্ত হওয়ার পর ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠী, মাঁখো সরকার এবং চরম ডানপন্থীদের দ্বারা দুই বছর ধরে বিচারিক হয়রানির শিকার হয়ে গত ৭ জুলাই আদালতে হাজির হন। এপ্রিলে তাকে বেআইনি মাদক সংক্রান্ত ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তারি হেফাজতে নেয়া হয়, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তার গোপন নজরদারি চালানো হয় এবং ইসলামোফোবিয়া নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এটি ছিল তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই, গণমাধ্যমে কাদা ছোঁড়াছুড়ি এবং তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকির ক্যাম্পেইনের অংশ।

৭ জুলাই, ফ্রান্সের Insoumise দলের ইউরোপীয় সংসদ সদস্য রিমা হাসান আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হবেন। ফরাসি ইসরায়েলপন্থী সংগঠন, ইমানুয়েল মাঁখোর সরকার এবং চরম ডানপন্থীদের দুই বছরের বিচারিক হয়রানির পর এটি ঘটতে চলেছে।

হাসানের বিরুদ্ধে তথাকথিত " সন্ত্রাসবাদের পক্ষপাত" আইনে মামলা করা হয়েছে, কেননা তিনি একটি টুইটে ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে বলেছিলেন। ফ্রান্সের মূলধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি বিতর্কিত অবস্থান, যেখানে এখনও ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যা কিংবা তা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ফ্রান্সের নিজস্ব দায়কে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

"আমার যৌবন আমি ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে উৎসর্গ করেছি। যতদিন নিপীড়ন থাকবে, প্রতিরোধ কেবল অধিকারই নয়, এটি একটি কর্তব্য," হাসান টুইট করেছিলেন। উক্তিটি ছিল কোজো ওকামোতো'র, যিনি জাপানি রেড আর্মির সদস্য এবং ১৯৭২ সালে তেল আবিবের কাছে একটি বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলায় ছাব্বিশ জনকে হত্যার বিচার চলাকালে এই মন্তব্য করেছিলেন।

হাসানের কাছে, এই উক্তিটি পোস্ট করার অর্থ ছিল আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে সমর্থিত একটি আইডিয়া প্রকাশ করা— যে নিজেদের ভূখণ্ড দখল বা উপনিবেশ স্থাপনকারী বিদেশি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অধিকার জনগণের রয়েছে। এটি ওকামোতো'র নিজস্ব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমর্থন ছিল না। বিভ্রান্তি এড়াতে হাসান দ্রুত টুইটটি মুছে ফেলেন।

কিন্তু তিনি সেটি মুছে ফেলার আগেই, মেরিন লে পেনের Rassemblement National(ন্যাশনাল র‍্যালি)-এর রাজনীতিবিদ ম্যাথিয়াস রেনো তৎপর হয়ে ওঠেন এবং ২৭ মার্চ টুইটটির জন্য বিচার চেয়ে প্যারিসের একটি আদালতে মামলা করেন। এই মামলার রেফারেলে তার সাথে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দুটি শক্তিশালী ফরাসি ইসরায়েলপন্থী তদবিরকারী: ইউরোপিয়ান জিউইশ অর্গানাইজেশন (OJE) এবং ইন্টারন্যাশনাল লিগ অ্যাগেইনস্ট রেসিজম অ্যান্ড অ্যান্টিসেমিটিজম (LICRA)। উভয় সংগঠনই ফ্রান্সে ফিলিস্তিনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়েছে এবং ইহুদিবাদ-বিরোধিতা এবং ইসরায়েলের সমালোচনার মতো মতামতকে মিছেমিছি ইহুদি-বিদ্বেষের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। OJE-এর সভাপতি মুরিয়েল ওয়াকনিন-মেলকি পূর্বে মাঁখোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও গত বছর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতীকী সিদ্ধান্তের জন্য তাকে নিন্দা করেছিলেন। ২০২৩ সালে উত্তর ফ্রান্সের ট্রেড ইউনিয়নবাদী জঁ-পল দেলেস্কোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় OJE বাদীপক্ষ ছিল। দেলেস্কোকে দোষী সাব্যস্ত করে OJE-কে ৫,০০০ ইউরো জরিমানা দেওয়ার সাজা দেওয়া হয়েছিল, তবে মার্চ মাসে আপিলে সেই সাজা বাতিল হয়ে যায়।

“একজন রাজনীতিবিদ হোক, বা অ্যাক্টিভিস্ট, কৌতুকাভিনেতা, অথবা সাংবাদিক—আপনি যদি ইসরায়েল সম্পর্কে এমন কিছু বলেন যা তাদের পছন্দ নয়, তাহলে তারা অভিযোগ করবে,” হাসান আমাকে বলেছিলেন।

দুই বছর আগে হাসানের নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে, তিনি বেশ কিছু ইসরায়েল-পন্থী গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন, যারা তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত হাসান এ ধরনের মোট ষোলটি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। যদিও এর মধ্যে তেরোটি ইতিমধ্যেই খারিজ হয়ে গেছে। ষোলটির মধ্যে আটটি অভিযোগ এনেছিল ইসরায়েল-পন্থী গোষ্ঠীগুলো, যাদের মধ্যে রয়েছে B’nai B’rith, Jewish Observatory of France (OJF), এবং National Bureau for Vigilance Against Antisemitism (ইহুদি-বিদ্বেষবিরোধী সতর্কতা বিষয়ক জাতীয় ব্যুরো)।

“এ থেকে আমি যা শিখেছি তা হলো, ফ্রান্সে বিতর্কের বিচারিকীকরণে জড়িত পক্ষগুলোকে ... কীভাবে আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করা যায়,” হাসান বলেন।

Fake Leaks to the Press (সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ফাঁস)

রাজনৈতিক বিতর্ককে দীর্ঘ আইনি দ্বন্দ্বে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়া এপ্রিলের শুরুতে হাসানের আটকের আগে আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

অভিযোগগুলো রেফার করার পর হাসানকে কঠোর ও অস্বাভাবিক নজরদারির আওতায় রাখা হয় — যেন আদালত আশঙ্কা করছিল যে তিনি অভিযোগ এড়িয়ে যেতে পারেন। তার বিরুদ্ধে অন্যান্য সকল আইনি প্রক্রিয়ায় তার আচরণের কথা বিবেচনা করলে, যেখানে তিনি কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই স্বেচ্ছায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন- তার পলাতক হয়ে যাওয়ার আশংকা করার কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণ ছিল না। তারপরও Mediapart(মিডিয়াপার্ট)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ফ্রান্স, জাতীয় রেল অপারেটর Société nationale des chemins de fer français (SNCF), এবং ইউরোস্টার অপারেটর থালিস থেকে হাসানের ভ্রমণ রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। তার ফোনও সক্রিয় জিওলোকেশন ট্র্যাকিংয়ের আওতায় রাখা হয়। হাসান ও তার দল প্রথমবার এটি বুঝতে পারেন যখন তিনি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন তার ফোন কোথায়। তারা বলেন যে তারা জানেন কয়েক মিনিট আগেও এটি তার কাছেই ছিল। হাসানের দুটি ফোন আছে — একটি কাজের জন্য এবং একটি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বার্তার জন্য। ব্যক্তিগত ফোনটি তল্লাশি করা হতে পারে এবং বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় তিনি সেটি এক সংসদীয় সহকারীর কাছে রেখে যান। 

এই ধরনের উদ্বেগ যথাযথ ছিল। তার আটকের কিছুদিন পরেই ফরাসি পুলিশ ও আদালতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা সাংবাদিকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হওয়া তথ্য পোস্ট করে দাবি করেন যে হাসানের পার্সে বৈধ CBD-র পাশাপাশি 3-MMC নামক একটি অবৈধ কৃত্রিম মাদক পাওয়া গেছে। সম্পূর্ণরূপে যাচাই না হওয়া সত্ত্বেও গল্পটি ফরাসি গণমাধ্যমে তৎক্ষণাৎ ব্যাপক আলোড়ন তোলে। হাসানের প্রেস অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিওনা ভ্যানস্টন জ্যাকোবিন-কে জানান, তার আটকের সাথে পার্সে মাদক পাওয়ার ঘটনাকে যুক্ত করে পাঁচশোরও বেশি সংবাদ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। 

ভ্যানস্টন বলেন, প্রায় কোনো সংবাদমাধ্যমই হাসানের বক্তব্য জানতে বা তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন কিনা তা জানতে যোগাযোগ করেনি। ভ্যানস্টন আরও বলেন, বেশিরভাগ সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্ন ছিল হাসানকে কোথায় রাখা হয়েছে তা নিয়ে: যাতে তার মুক্তি পাবার সময় ছবি তোলা যায়।

আদালতের নিজস্ব পরীক্ষা দ্রুতই বেআইনি মাদকের উপস্থিতির প্রমাণ খণ্ডন করে — ৪ এপ্রিলের মধ্যেই তারা ফলাফল পেয়ে যায়। কিন্তু তারা ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেনি। সম্ভাব্য মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ নিঃশব্দে প্রত্যাহার করা হয় কারণ সেগুলোর কোনো ভিত্তি ছিল না।

Le Canard enchaîné পত্রিকা জানিয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের খবর এসেছে বিচার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাশা স্ট্রব-কানের কাছ থেকে। তিনি তার অফিসিয়াল বিচার মন্ত্রণালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ঘোষণা দেন যে তিনি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন, সেইসঙ্গে নিবন্ধটি প্রকাশের পর তার প্রতি ইহুদিবিদ্বেষী অপমানের কারণে আরও একটি মামলা দায়ের করবেন।

এদিকে, হাসানকে মুক্তি দেওয়ার আগে তেরো ঘণ্টা আটক রাখা হয়। হাসানের সংসদীয় ভূমিকা তাত্ত্বিকভাবে তাঁকে এই ধরনের বাকস্বাধীনতা সংক্রান্ত মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেয়, এটা ছিল তার বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় হয়রানির অংশ। হাসান কখনোই এই অব্যাহতির সুযোগকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ব্যবহার করেননি — এটি তার একটি রাজনৈতিক বিবৃতি যা এরকম সুরক্ষা ভোগ করে না এমন অন্যান্য নাগরিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

আদালত মিথ্যা গল্প ফাঁস করে এবং তাকে অপরাধ সংঘটনের সময় হাতেনাতে আটক করার কথা বলে তার আটককে ন্যায্যতা দিয়ে অব্যাহতির সুযোগকে পাশ কাটিয়ে যায়। কোনো অপরাধ সংঘটনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার ধারণার ভিত্তিতে একটি টুইটের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোনো সদস্যকে (MEP) এভাবে আটক করার ঘটনা এটাই প্রথম।

An Internal Enemy(এক অভ্যন্তরীণ শত্রু)

হাসানের আটকের সময় তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, যা মাঝে মাঝে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হত। তাকে একটি ছোট কক্ষে বন্দি করে রাখা হত।

তিনি জ্যাকোবিনকে বলেন, তাঁর অতীত সম্পর্কে প্রশ্নের পাশাপাশি তাঁকে ইসলামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও জেরা করা হয়। তিনি ইসলাম ধর্ম পালন করেন কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়। হাসান বলেন, "মনে হচ্ছিল যেন তারা আমাকে উগ্র ইসলামবাদের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।"

হাসান, যিনি কখনও প্রকাশ্যে নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আলোচনা করেন না, জ্যাকোবিনকে বলেন যে এই ধরণের প্রশ্ন স্পষ্টতই বর্ণবাদী। হাসান সিরিয়ার এক শরণার্থী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যারা সেখান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। দশ বছর বয়সে তিনি ফ্রান্সে আসেন এবং আঠারো বছর বয়সে ফরাসি নাগরিকত্ব পান।

আমি ফ্রান্সের Insoumise সংসদ সদস্য টমাস পোর্তেসের কথা বলতে চাই, যাঁকে ফ্রান্সের ইসরায়েলপন্থী রাজনীতিবিদরা Popular Front for the Liberation of Palestine(পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এবং একটি এনজিও'র(ফ্রান্স পরবর্তীতে এই এনজিও'র বিরুদ্ধে হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ এনেছে) সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। পোর্তেসের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। কিন্তু গত বছর একটি সংসদীয় প্রতিবেদনে তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য তাঁকে চিহ্নিত করা হয়। আমি হাসানকে জিজ্ঞাসা করি, তাঁর ওপর করা নজরদারি কি একই ধরণের একটি মামলা তৈরি করার চেষ্টা বলে তিনি মনে করেন কিনা।

হাসান মনে করেন যে তা সম্ভব নয়: তার রেকর্ডে একজন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যের স্বাভাবিক গতিবিধি এবং কিছু ব্যক্তিগত ভ্রমণ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।

আর জন্মসূত্রে ফরাসি টমাস পোর্তেসের অবস্থার বিপরীতে, হাসানের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নিরবচ্ছিন্নভাবে তার ফরাসি নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রচার চালানো হয়েছে। হাসানের মনে হয় এটি যতটা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এক বামপন্থী রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণে হয়েছে, ঠিক ততটাই নিছক বর্ণবাদের প্রকাশ।

গত জুলাই মাসে, বর্ণবাদী রাজনীতিক এবং মেরিন ল্য পেনের ভাইঝি মারিওঁন মারেশাল বলেছিলেন যে তিনি হাসানকে কেবল "কাগজে-কলমে ফরাসি" বলে মনে করেন। এটি ১৯৩০-এর দশকের ধাঁচের ইহুদিবিদ্বেষের মতোই, যেখানে ইহুদি ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের কোনো দলিলের সুবাদে কেবল নামমাত্র স্বদেশী হিসেবে বর্ণনা করা হতো— তাদেরকে বিদেশি, বিকৃতমূলক ধারণা এনে ফরাসি রাজনৈতিক জীবনকে বিষিয়ে তোলা বহিরাগত হিসেবে চিত্রিত করা হতো।

হাসান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়োর আক্রমণেরও শিকার হয়েছেন, যিনি এখন একসময়ের পরাক্রমশালী রক্ষণশীল দল Les Républicains-এর নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। ফ্রান্সের সাবেক শীর্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা রেতাইয়ো প্রকাশ্যে হাসানের রাজনীতির জন্য তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরে তিনি এই বক্তব্য থেকে সরে আসেন, তবে তাঁর মত বদলেছে বলে নয়। বরং এমন করলে হাসান রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হবে।

হাসান আমাকে বলেন, "আমার অতীতের কারণে আমাকে সন্দেহ করা হয়। ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতির পরিবেশে এটা সেই গতানুগতিক "অভ্যন্তরীণ শত্রু" বানানোর প্রচেষ্টা।

International Obligations(আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা)

সরকার অবশ্য আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থন করার সময় বাছাই করে। হাসান জ্যাকোবিনকে বলেন, সরকার তাকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের লক্ষ্যবস্তু করে কেবল দেশীয় রীতিনীতিই লঙ্ঘন করছে না, আন্তর্জাতিক কাঠামোর একটি পক্ষ হওয়া সত্ত্বেও তারা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের বাধ্যবাধকতাগুলোও নিয়মতান্ত্রিকভাবে লঙ্ঘন করছে।

তিনি বলেন, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ফরাসি সরকারের সহানুভূতি থাকার প্রশ্ন নয়। বরং, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া, কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তাদের আচরণ বদলানোর চেষ্টা করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক বর্তমানে ওয়ান্টেড ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা তাদের আইনি দায়িত্ব। এর পরিবর্তে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দায় থাকা সত্ত্বেও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার তার ফরাসি আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যাওয়ার অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

হাসান বলেন, এতকিছু সত্ত্বেও তিনি এখনও আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন সদস্য, কোনো বিপ্লবী নন। তাই সরকার কর্তৃক তার মুখ বন্ধ করার এই দমনমূলক কৌশল বিশেষভাবে জঘন্য। তিনি বলেন, এর লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনে গণহত্যা সম্পর্কে ফ্রান্সের অভ্যন্তরে ঐকমত্য বদলানোর পক্ষে কথা বলার কি মূল্য দিতে হয় তা দেখানো।

A Mounting Campaign(একটি ক্রমবর্ধমান অভিযান)

ফ্রান্সে এক নব্য-রক্ষণশীল, "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের" পরিবেশ বিরাজ করছে। France Insoumise-বহির্ভূত বামপন্থীদের ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করতে এক বছরের বেশি সময় লেগে গিয়েছিল। দলটির নেতা ও ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোর বিরুদ্ধে এখনও অবিরামভাবে মিথ্যা অভিযোগ উঠছে। সরকারি রেডিও স্টেশন ফ্রান্স কালচারে সম্প্রতি তাকে আক্রমণ করে একটি অনুষ্ঠানে মেলঁশোকে "নতুন" জঁ-মারি ল্য পেন হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, কুখ্যাত ল্য পেন অশউইটজের গ্যাস চেম্বারকে "ইতিহাসের খুঁটিনাটি বিষয়" বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ওই স্টেশনের সাংবাদিকদের একটি পেশাজীবী সংগঠন দ্রুত এই অনুষ্ঠানের নিন্দা জানায়। 

হাসানকে নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিতর্কগুলোর একটি হল- ফিলিস্তিনি বন্দীদের ধর্ষণ করার জন্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কুকুরদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিবরণ তিনি শেয়ার করেছিলেন। তৎক্ষণাৎ তার বিরুদ্ধে blood libel-এর(ইহুদিদের দ্বারা অ-ইহুদি শিশুদের রক্তপানের গুজব) অভিযোগ আনা হয় এবং ফরাসি রাজনৈতিক-মিডিয়া দ্বারা তীব্রভাবে নিন্দিত হন। এ বছর নিউ ইয়র্ক টাইমসের নিকোলাস ক্রিস্টফের প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও এই কৌশলের ব্যবহার করা হয়। Libération-এর একজন নিন্দনীয় ছদ্ম-বাম সাংবাদিক প্রায়ই হাসানকে "লেডি গাজা" বলে উপহাস করেন।

ট্রটস্কিবাদী দল Révolution Permanente-এর রাষ্ট্রপতি প্রার্থী আনাস কাযিব গত সপ্তাহে ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এর পর ইসরায়েলি উপনিবেশবাদের নিন্দা এবং প্রতিরোধের ফিলিস্তিনি অধিকারকে সমর্থন জানিয়ে টুইট করার জন্য একই ধরনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এই সময় মেলঁশো আদালতের সামনে এক সমাবেশে অংশ নেন। হাসান বারবার এই অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

হাসান বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের অধিকারের প্রতি অঙ্গীকার এবং এক-রাষ্ট্র গঠনের সমাধানের মতো বিষয়গুলোর উপর গ্রহণযোগ্য আলোচনার সীমা প্রসারিত করার প্রচেষ্টাই তাকে টার্গেট করার আসল কারণ। হাসান ফ্রান্স *Insoumise-*এর অভ্যন্তরে ঐতিহাসিক "দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের" অবস্থান থেকে সরে প্যালেস্টাইনে একটি দ্বি-জাতীয় রাষ্ট্র গঠনের মতো খোলা মনমানসিকতা তৈরির বিষয়ে মতৈক্য গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, এটি ফ্রান্সে গ্রহণযোগ্য মতামতের পরিসর সীমিত রাখার লক্ষ্য, যা ইসরায়েলি স্বার্থের জন্য হুমকি।

Watchwords(মূলকথা)

আমি হাসানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তার বিরুদ্ধে চলমান মানহানিকর প্রচারণা ও আইনি হয়রানির বাইরেও তিনি কখনও নিজের শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পান কিনা।

"না," তিনি জবাব দিলেন:

ভয় আমার মানসিকতার অংশ নয়। আমি খুব ভালো করেই জানি ফিলিস্তিনি সংগ্রাম কী দাবি করে। এটি আত্মত্যাগ দাবি করে। যদি আপনার মধ্যে ভয় থাকে, তাহলে আপনি ফিলিস্তিনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। আমার কাছে, ফিলিস্তিনি সংগ্রাম... বিনিয়োগ দাবি করে, এক মাত্রায় আত্মত্যাগ দাবি করে।

এই কারণে হাসান বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে তিনি কীভাবে কথা বলেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা অর্থহীন। পঁয়তাল্লিশ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ চলা সত্ত্বেও, কোন ধরণের কথা বলা এড়িয়ে চলতে হবে তা আগে থেকে জানার আসলেই কোনো উপায় নেই।

"আমার বিরুদ্ধে এমন সব অপরাধের অভিযোগ এসেছে যা কেউ কখনো অনুমানই করতে পারবে না, [যেমন] 'বিদ্রোহ' শব্দটি ব্যবহার করার জন্য। আপনি কীভাবে জানবেন যে টুইট বা বিবৃতি দেয়ার সময় আপনি 'বিদ্রোহ' শব্দটি ব্যবহার করতে পারবেন না, কারণ অন্য পক্ষ বলে বসবে আপনি 'intifada' বোঝাতে চেয়েছেন?" হাসান প্রশ্ন করেন।

"ফ্রানজ ফানোঁকে উদ্ধৃত করার জন্যও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আমার বাসায় তার বই আছে — ফ্রান্সের অনেক বইয়ের দোকানে সেগুলো বিক্রি হয়। আপনি অভিযোগের ঝুঁকি আছে বলে তার লেখা শব্দ ব্যবহার না করার বিষয়ে আন্দাজ করতে পারবেন না। এই অভিযোগগুলোর নির্মম চরিত্র আপনি স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছেন।"

কিন্তু তার মতে ফিলিস্তিনি সংগ্রামের দাবির কারণে এই মূল্য দেয়া সার্থক। "শান্তি"র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চমৎকার বক্তৃতা বা সমাজতন্ত্র-শাসিত প্যারিস সিটি হল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের সাম্প্রতিক "সম্মানসূচক নাগরিকত্ব" দেওয়ার মতো প্রতীকী আচরণের কোনো বাস্তবিক ফলাফল নেই।

"আমার কাছে এটা একটা মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্ন— এই উপলব্ধি করা যে বিরোধী অবস্থানে থাকলেও আমাদের মেনে নিতে হবে যে ফিলিস্তিনি সংগ্রামের জন্য আমাদের আত্মত্যাগ করতে হবে, আমরা স্পটলাইটে থাকব, আমাদের আদালতে নেওয়া হবে, সংবাদমাধ্যমে আমাদের বদনাম করা হবে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদেরও কিছু দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে যা পূরণ করতে হবে।"

মারলন এটিঞ্জার "Zemmour and Gaullism"-এর লেখক এবং ২০২৪ সালের ফরাসি আইনসভার নির্বাচনী পডকাস্ট Flep24-এর সহ-উপস্থাপক।

Available in
EnglishSpanishPortuguese (Brazil)GermanFrenchItalian (Standard)ArabicBengaliRussian
Author
Marlon Ettinger
Translators
Subrina Afrin, Akter Alam and ProZ Pro Bono
Date
23.07.2026
Source
JacobinOriginal article🔗
PoliticsPalestine
Progressive
International
Privacy PolicyManage CookiesContribution SettingsJobs
Site and identity: Common Knowledge & Robbie Blundell