Statements

কুর্দিস্তান কমিউনিটিজ ইউনিয়ন : কোবানির প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত হোক!

কেসিকে নির্বাহী কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতি
আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে হামলার পর এবার রোজাভা এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়াতেও আক্রমণ শুরু হয়েছে। তুরস্কের সরাসরি সহায়তায় এইচটিএস এবং তুরস্কের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ভাড়াটে বাহিনী এই হামলাগুলো চালাচ্ছে। রোজাভা এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়াকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা আসলে সমগ্র কুর্দি জনগোষ্ঠী এবং এই অঞ্চলের মানুষের বিরুদ্ধে একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। এই অঞ্চলে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে উপস্থিত আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোও তাদের নীতি ও অবস্থানের কারণে এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়ে উঠেছে।

কুর্দি জনগণের নেতা আবদুল্লাহ ওজালান একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি সিরিয়ার উত্তেজনা কমাতে উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনকে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দামেস্কের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকেও আরও সংঘাত এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্ক এই আহ্বানের বিষয়ে অবগত। উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন এবং এসডিএফ যখন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আলেপ্পোর কুর্দি এলাকাগুলোতে হামলা চালানো হয়। স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ৪ জানুয়ারি মার্কিন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একটি ইতিবাচক ফলাফল এসেছিল। কিন্তু তুরস্কের প্রভাবে থাকা শাইবানি সেই বৈঠকে হস্তক্ষেপ করেন এবং একটি যৌথ বিবৃতি দিতে বাধা দেন। এভাবে সমঝোতা ও চুক্তির প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেওয়া হয় এবং আলেপ্পোর কুর্দি এলাকাগুলোতে আক্রমণ করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে হামলাগুলো পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং আলোচনাকে কেবল কালক্ষেপণের কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এই যুদ্ধ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তুরস্ক সরাসরি জড়িত। শুরু থেকেই এইচটিএস নেতা জোলানি একটি প্রতিক্রিয়াশীল ও একত্ববাদী মানসিকতা নিয়ে কুর্দিদের ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনের সমঝোতার প্রচেষ্টায় সাড়া দিতে অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর দমনমূলক শাসন মেনে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। এই হামলাগুলোর লক্ষ্য হলো কুর্দি, আরব, সিরিয়াক এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে ‘ডেমোক্রেটিক নেশন’ বা গণতান্ত্রিক জাতি ধারণার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনকে ভেঙে ফেলা। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ায় একটি একক জাতি ও একক ধর্মের ওপর ভিত্তি করে একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করা। এই মানসিকতা সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর একটি বড় আঘাত। এর মাধ্যমে ডেমোক্রেটিক নেশনের সেই ধারণাকেই নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারত।

এই হামলাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে যে সংকীর্ণতাবাদী ও একত্ববাদী আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে যেকোনো আদর্শ বা মূল্যবোধকে পদদলিত করতে দ্বিধা করে না। আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি জনগণ এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ শহীদ এবং বিপুলসংখ্যক আহত হয়েছেন। আইএসআইএস পুরো মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, আর কুর্দি এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার মানুষ মানবতাকে রক্ষা করতে আইএসআইএসের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো আইএসআইএসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কুর্দিদের পাশে দাঁড়ানোর মতো অবস্থান নিয়েছিল। তারা এর মধ্যে নিজেদের স্বার্থ খুঁজে পেয়েছিল, কিন্তু আইএসআইএস পরাজিত হওয়ার পর তারা কুর্দি এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার মানুষদের মুক্ত ও গণতান্ত্রিক জীবনের সংগ্রামে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেয়নি। জোলানিকে দামেস্কের শাসক বানানোর পর তারা আইএসআইএসপন্থী এইচটিএসের সমর্থক হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে তারা আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ১০ হাজারেরও বেশি প্রাণ দেওয়া রোজাভা এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার মানুষদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি করার মাধ্যমে তারা ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে এবং সব ধরনের নৈতিক ও আদর্শিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়েছে। তারা নিজেদের স্বার্থে আবারও সাধারণ মানুষকে বলি দিচ্ছে।

কুর্দিরা যখন তাদের ‘ডেমোক্রেটিক নেশন’ বা গণতান্ত্রিক জাতি ধারণার মাধ্যমে আরব, সিরিয়াক এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সাথে মিলে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি অনুকরণীয় আদর্শ তৈরি করেছে, তখন এইচটিএস প্রশাসন আলাউতি, দ্রুজ এবং কুর্দিদের ওপর হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই গণতান্ত্রিক মরূদ্যানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এইচটিএস-এর প্রতি সমর্থনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা আসলে কেমন মধ্যপ্রাচ্য চায়। ফলে এটি পরিষ্কার যে গণতন্ত্র এবং নারীর অধিকার তাদের মুখে কেবল একটি মুখোশ মাত্র।

এই হামলাগুলো কেবল রোজাভা এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র কুর্দি জাতির বিরুদ্ধে এক গভীর চক্রান্ত। কুর্দিদের কোথাও কোনো ইচ্ছা বা ক্ষমতা থাকুক, এটি কেউ চায় না। বিশেষ করে কুর্দিবিদ্বেষী এবং গণহত্যায় লিপ্ত শক্তিগুলো সব জায়গায় কুর্দিদের সংগঠন এবং অর্জনগুলোর ওপর আঘাত হেনে তাদের অস্তিত্বকেই লক্ষ্যবস্তু করছে। সিরিয়ার কুর্দিদের সাথে যা করা হচ্ছে, তা মূলত এই গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিরই একটি ধারাবাহিকতা। এই দিক থেকে দেখলে, সকল কুর্দির উচিত এই হামলাগুলোকে নিজের ওপর আক্রমণ হিসাবে গণ্য করা এবং বিশেষ করে আজকে জাতীয় ঐক্য ও দৃঢ় অবস্থান প্রদর্শন করা। রোজাভা, কুর্দিস্তানের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ এবং বিদেশের মাটিতে আমাদের জনগণ এই হামলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। এই গণজাগরণকে আরও বেগবান করতে হবে। কুর্দিদের অবশ্যই এই যুদ্ধকে নিজেদের অস্তিত্ব ও সম্মান রক্ষার লড়াই হিসাবে দেখতে হবে এবং সর্বশক্তি দিয়ে এই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এই লক্ষ্যে, কুর্দিস্তানের সব প্রান্তের মানুষদের উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনের সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বানে সাড়া দিতে হবে।

এইচটিএস-এর হামলাগুলো সিরিয়ার ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এইচটিএস এমন একটি নীতি অনুসরণ করছে যা সিরিয়াকে একতাবদ্ধ করার পরিবর্তে খণ্ডিত করবে। যেখানে স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন কুর্দি-আরব ঐক্য গড়ে তুলেছে, সেখানে এইচটিএস কুর্দি-আরব শত্রুতা তৈরি করতে চায়। এটিই প্রমাণ করে যে এইচটিএস নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি শক্তির প্রভাবে এই যুদ্ধ চালাচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে এইচটিএস এসব নীতি দিয়ে সিরিয়ার গণতান্ত্রিক ঐক্য অর্জন করতে পারবে না, তাই এই শাসনের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

কুর্দি ও আরবরা মিলে সহোদরের মতো একটি নতুন সিরিয়া গড়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তাতে বাধা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আরব জনগণ এবং সকল গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন কুর্দি-আরব ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে রক্ষা করতে হবে। আমাদের আরব জনগণকে সব ধরনের উস্কানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এইচটিএস এই হামলার মাধ্যমে আরব জনগণের প্রতিও শত্রুতা প্রদর্শন করছে। আরবরা উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ায় স্বাধীনভাবে, গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং শান্তিতে বসবাস করছে, কিন্তু এইচটিএস এবং তাদের সমর্থকরা এখন তাদেরকে একটি দমনমূলক ও স্বৈরাচারী শাসনের ছায়াতলে নিয়ে আসতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে, আরব জনগণকেও এই হামলার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের নিজেদের তৈরি করা মুক্ত ও গণতান্ত্রিক জীবনকে রক্ষা করতে হবে।

উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার জনগণ এ পর্যন্ত সব ধরনের আক্রমণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করেছে। তাদের মুক্ত ও গণতান্ত্রিক জীবনকে রক্ষা করার জন্য এই হামলা প্রতিহত করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে, উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতির ডাক দিয়েছে এবং সকলকে, বিশেষ করে তরুণদেরকে এসডিএফ-এর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছে। আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যেভাবে সব বয়সের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, ঠিক তেমন মনোভাবই এখন প্রদর্শন করতে হবে। যদি সমগ্র জনগোষ্ঠী একটি আত্মরক্ষা বাহিনীতে পরিণত হয়, কেবল তখনই আইএসআইএসপন্থী মানসিকতার হাত থেকে শহর ও গ্রামগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এভাবেই অস্তিত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যেতে পারে এবং দশ হাজার শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধের এটিই একমাত্র পথ।

আলেপ্পো থেকে শুরু করে উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই হামলাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে জনগণ কেবল নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা করেই তাদের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার জন্য লড়তে পারে। প্রকৃতপক্ষে, কুর্দিরা দশকের পর দশক ধরে নিজেদের শক্তির ওপর নির্ভর করেই অস্তিত্ব ও স্বাধীনতার ঐতিহাসিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ার সমস্ত কুর্দিরাও আজ পর্যন্ত নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা করেই লড়েছে এবং এভাবেই তাদের সব অর্জন নিশ্চিত করেছে। এই অবস্থায়, কুর্দি এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার সমস্ত জনগণকে এই হামলার মুখে নিজেদের শক্তির ওপর আস্থা রাখতে হবে। তারা যদি নিজেদের শক্তিতে বিশ্বাস রাখে এবং প্রতিরোধের সংকল্প দেখায়, তবে তারা নিজেদের অতীত ইতিহাসের মতোই বিশ্বের সামনে এক দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং জয়ী হবে।

এই হামলাগুলো কুর্দি জনগণের নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের উদ্যোগে তুরস্কের অভ্যন্তরে চলমান ‘শান্তি ও গণতান্ত্রিক সমাজ’ প্রক্রিয়ার ওপর একটি আঘাত এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। যারা গত শতাব্দীর মতো তুরস্ককে যুদ্ধাবস্থায় রাখতে চায় এবং কুর্দি-তুর্কি ভ্রাতৃত্ব তথা জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য চায় না, তারাই এই হামলায় আইএসআইএসকে সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে তুরস্কের কুর্দিদের সহোদর বলে সম্বোধন করা হচ্ছে, সেখানে সিরিয়ার কুর্দিদের প্রতি এক প্রকার বৈরী মনোভাব গ্রহণ করা হয়েছে। কিছু সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য এবং সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো এরই বহিঃপ্রকাশ। যখন কুর্দি নেতা আবদুল্লাহ ওজালান তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রম করছেন, তখন কুর্দি এবং উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনের ওপর এই হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপরই আক্রমণ। এটি নিশ্চিত যে এই পরিস্থিতি তুরস্কের ব্যাপক ক্ষতি করবে এবং এই যুদ্ধ তুরস্কের ভবিষ্যৎ অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি এবং তুর্কি দেশপ্রেমিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তাঁরা এই শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার সকল প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করেন এবং তুরস্কের শান্তি ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেন। তুরস্কের অভিন্ন ভবিষ্যৎ যে কেবল গণতান্ত্রিক ঐক্যের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব, তা উপলব্ধি করে আমাদেরকে সিরিয়ার যুদ্ধের বিরোধিতা করতে হবে এবং জনগণের ভ্রাতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে একটি শান্তিময় তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্য গড়ার সংগ্রামে অংশ নিতে হবে।

কুর্দিদের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে যেসকল কুর্দি জনগণ এবং তাঁদের আন্তর্জাতিক বন্ধুরা রুখে দাঁড়িয়েছে, তাঁদের অবিচল থাকতে হবে এবং রোজাভা ও উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার প্রতিরোধ বাহিনীর পাশে দাঁড়াতে হবে। শেঙ্গাল (শিনজার) এবং কোবানিতে আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধের চেতনা তৈরি হয়েছিল, আজ তা আবারও জাগ্রত করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের সমস্ত জাতি ও আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সাথে নিয়ে এই নতুন আইএসআইএস আক্রমণকে প্রতিহত করতে হবে। কুর্দি স্বাধীনতা আন্দোলন (কুর্দিশ ফ্রিডম মুভমেন্ট) হিসাবে আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে আমরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াইরতদের পাশে আছি এবং আমরা আমাদের প্রতিরোধকামী জনগণকে অভিবাদন জানাই।

সিরিয়ার স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক বিশেষ যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। এই যুদ্ধের অর্ধেকই এখন বিশেষ যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক বন্ধুদের উচিত কেবল স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। এই হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং প্রতিরোধও এভাবেই প্রদর্শন করা উচিত।

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

Available in
EnglishSpanishPortuguese (Brazil)GermanFrenchItalian (Standard)TurkishHindiBengaliArabic
Translators
Sifat Noor and ProZ Pro Bono
Date
20.01.2026
Progressive
International
Privacy PolicyManage CookiesContribution SettingsJobs
Site and identity: Common Knowledge & Robbie Blundell