Speeches

জাতীয় স্বাধীনতা: আমাদের আমেরিকার জনগণের জন্য শর্তহীন নৈতিক বিধান

Manuel Maldonado-Denis (ম্যানুয়েল ম্যাল্ডোনাডো ডেনিস)-এর 1981 সালের বক্তৃতাতে জাতীয় স্বাধীনতাকে এই অঞ্চলের শর্তহীন নৈতিক বিধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
1981 সালে হাভানাতে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান বুদ্ধিজীবীদের মিটিংয়ে Manuel Maldonado-Denis (ম্যানুয়েল ম্যাল্ডোনাডো ডেনিস) তার বক্তৃতার মাধ্যমে দাবি করেন যে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দীপপুঞ্জে সত্যিকারের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য থেকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয় বরং সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে এক নিরবিচ্ছিন্ন, ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী আন্দোলন করা প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় মন্তব্য: বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করা আক্রমণ ও সেখানকার রাষ্ট্রপতিকে অপহরণ করে আনা সহ ওই দেশের প্রতি আমেরিকার বর্তমান আগ্রাসনের উপর নজর রেখে The Wire (দ্য ওয়্যার) Manuel Maldonado-Denis (ম্যানুয়েল ম্যাল্ডোনাডো ডেনিস)-এর বক্তৃতা পুনরায় প্রকাশিত করেছে - Reagan (রিগ্যান)-এর সময়কালে মার্কিন আগ্রাসনের এক প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া - "আমাদের আমেরিকা"-র সামগ্রিক সার্বভৌমত্বের জন্য সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার উপর গুরুত্ব দিতে এক দীর্ঘস্থায়ী আহ্বান।

“Tupac Amaru (টুপ্যাক অ্যামারু) থেকে শুরু করে আমাদের সময় পর্যন্ত ‘আমাদের আমেরিকা’-র জনগণ জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামের পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করে আসছে।”

1981 সালের 4 থেকে 7 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন লেখক, কবি, বিদ্বান ব্যক্তিরা  কিউবার হাভানায় Primero Encuentro de Intelectuales por la Soberanía de los Pueblos de Nuestra América-এর জন্য সম্মিলিত হয়েছিলেন - আমাদের আমেরিকাবাসীদের সার্বভৌমত্বের জন্য ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান বুদ্ধিজীবীদের প্রথম সম্মেলন।  Casa de las Americas-এর আয়োজিত এই সম্মেলনের এই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারীরা এসেছিলেন, আর তাদের সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাদের ভিন্ন-ভিন্ন আদর্শবাদ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ। 

তবে তারা এক বিষয়ে সহমত ছিলেন: Ronald Reagan (রোনাল্ড রিগ্যান)-এর কারণে হাওয়া বিপদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি, সুরক্ষা এবং আমেরিকার বসবাসকারীদের মধ্যে সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা। তবে এ কথাও ঠিক যে, Nuestra América: En lucha por su verdadera independencia, -এর ভূমিকাতে সম্মেলনের কার্যক্রম মুদ্রণকারী প্রকাশনীর সম্পাদকরা উল্লেখ করেছিলেন যে বিরল রাজনৈতিক জরুরি অবস্থার ভিত্তিতেই এই সম্মেলন চালিত হয়েছিল। তবে সেখানে উরুগুয়ের সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কবি Mario Benedetti (মারিও বেনেডেট্টি)-র বর্ণনা অনুযায়ী এটিকে Reagan (রিগ্যান)-এর কারণে হাওয়া বিপদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের "অদ্বিতীয় ঐক্যবদ্ধতা"-র কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পাদকরা আরও বলেছেন যে:

"... ওনার নিউট্রন বোম, ওনার আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতিযোগিতা অত্যধিক পরিমাণে বাড়িয়ে দেওয়া, ঠান্ডা লড়াই উসকে দেওয়ার ওনার প্রবণতা, সমাজতন্ত্রের এবং জাতীয় স্বাধীনতার কারণের প্রতি ওনার ঘৃণা এবং যে সমস্ত দেশ সম্পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম করছে তাদের বিরুদ্ধে ওনার বারবার আগ্রাসন দেখিয়ে Ronald Reagan (রোনাল্ড রিগ্যান) অনিচ্ছাকৃতভাবেই এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের এটা বুঝতে সহায়তা করেছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধিক আধিপত্য তাদের সক্ষমতার বদলে দুর্বলতাকেই বেশি তুলে ধরলেও তারা একটি ক্ষমতা সম্পন্ন শত্রু যা আমাদের জনগণের মৌলিক অধিকারগুলোর উপর হস্তক্ষেপ করছে এবং একে পরাস্ত করতে আমাদের কাছে থাকা সমস্ত সম্পদের ব্যবহার করে আমাদের দৃঢ়ভাবে এই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।"

সংক্ষেপে, Ronald Reagan (রোনাল্ড রিগ্যান) শুধুমাত্র মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন তাই নয়, তার পাশাপাশি তার অন্তর্নিহিত দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব তুলে ধরেছিলেন।

পুয়ের্তো রিকোর রাজনৈতিক বৈজ্ঞানিক Manuel Maldonado-Denis (ম্যানুয়েল ম্যাল্ডোনাডো ডেনিস)-(1933-1992)-এর কংগ্রেসে দেওয়া বক্তৃতা খুবই উল্লেখযোগ্য ও তা বিস্তর প্রভাব ফেলেছিল। এটি Nuestra América-তে স্প্যানিশ ভাষায় “La liberation Nacional: imperative categorically de Nuestra America,” নামে প্রবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়েছিল, 1982-তে ইংরেজি ভাষায় এটি হাভানার জার্নাল Tricontinental(ট্রাইকন্টিনেন্টাল)-এ "জাতীয় স্বাধীনতা: আমাদের আমেরিকার জনগণের জন্য শর্তহীন নৈতিক বিধান"-এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

Denis (ডেনিস)-এর প্রবন্ধে হাভানা কংগ্রেসের সামরিক উদ্দীপনা তুলে ধরা হয়েছিল। উনি আমেরিকায় বসবাসকারী স্থানীয় ও আফ্রিকান নাগরিকদের দীর্ঘ ইতিহাসের কথা এবং স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কৃষক ও শ্রমিকদের লড়াইের কথা তুলে ধরেন। উনি আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্যগুলোর কথাও স্মরণ করিয়ে দেন: “ক) জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই; খ) জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পরেও সূক্ষ্ম এবং প্রকাশ্যভাবে চলতে থাকা উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম; গ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, অর্থাৎ, যে সমস্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এখনও বেসরকারি মালিকাধীন সেগুলো দেশের জনগণের ব্যবহারের জন্য ও ভোগ করার জন্য পুনরুদ্ধার করতে সংগ্রাম; [এবং] ঘ) এই সমস্ত উৎপাদনেরব্যবস্থাগুলোর  এবং সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর সামাজিকীকরণ করা।”

এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, Manuel Maldonado-Denis (ম্যানুয়েল ম্যাল্ডোনাডো ডেনিস)-এর মতে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন কেবল তখনই সম্ভব যদি এটি রক্ষা করার জন্য আঞ্চলিক একতা গড়ে তোলা যায়। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে Donald Trump (ডনাল্ড ট্রাম্প) তার পূর্বসূরী Reagan (রিগ্যান)-এর মতনই এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাগামহীন সহিংস সাম্রাজ্যবাদের ব্যবহার করছেন এবং তার ক্ষমতাধীন সবকিছু ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ ও আমাদের আমেরিকার জনগণের মধ্যে বিভাজন ও সন্দেহ জাগিয়ে তুলছেন। সুদূর অতীতে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এটা বুঝতে পেরেছিল যে এক দানবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে তাদের সকলকে একত্রিত হতে হবে।

আমরা নিচে Manuel Maldonado-Denis (ম্যানুয়েল ম্যাল্ডোনাডো ডেনিস)-এর প্রবন্ধ "জাতীয় স্বাধীনতা: আমাদের আমেরিকার জনগণের জন্য শর্তহীন নৈতিক বিধান" পুনঃমুদ্রিত করলাম।

জাতীয় স্বাধীনতা: আমাদের আমেরিকার জনগণের জন্য শর্তহীন নৈতিক বিধান

Manuel Maldonado-Denis (ম্যানুয়েল ম্যাল্ডোনাডো ডেনিস)

আদর্শবাদী দার্শনিক Emmanuel Kant (ইমানুয়েল কান্ট) যখন প্রত্যেক ব্যক্তির মানবজাতির প্রতি নৈতিক দায়িত্বের ধারণা উপস্থাপন করেছিলেন, উনি নিম্নলিখিতভাবে এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন: “সর্বদা এমনভাবে কাজ করার চেষ্টা করুন যাতে আপনার আচরণের মূল নীতি সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।“ কোনিগসবার্গের এই বিখ্যাত দার্শনিকের মতামত অনুযায়ী নৈতিকতায় এটিকে শর্তহীন বিধান বলা হয়, 19 শতকে José Martí (জোস মার্তী)-এর মতবাদেও এই একই বিষয়ে উঠে আসে, Martí (মার্তী)-এর বিখ্যাত পরামর্শ হলো: "অন্য কোনো ব্যক্তিকে চড় মারার আগে প্রত্যেক আদর্শ পুরুষের আগে নিজেকে চড় মেরে তার অনুভূতি নিয়ে নেওয়া উচিত।" মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার নিজস্ব প্রক্রিয়া থেকেই মনুষ্যজাতির প্রতি এই দায়িত্ববোধ জেগে ওঠে: অবিচার ও নির্যাতন দেখা দিলেই তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। এটি স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও জনগোষ্ঠী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাই Martí (মার্তী) Manifesto of Montecristi (ম্যানিফেস্টো অফ মন্টেক্রিস্তি)-তে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে: “এটি ভাবা হৃদয়স্পর্শী ও সম্মানজনক যে যখন কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামী কিউবার মাটিতে পতিত হন, হয়তো তিনি যে দেশের জন্য নিজের আত্মত্যাগ করেছেন সেই উদাসীন দেশের অমনোযোগের ফলে তাকে পরিত্যাগ করে দেওয়া হয়েছে, তখন তার এই পতন মনুষ্য জাতির বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে সাধিত হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের নৈতিক নীতির দৃঢ় প্রত্যয় ঘটায় এবং এর কারণে একটি উন্মুক্ত দ্বীপপুঞ্জ তৈরি করে যেখানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের বিপুল সম্পদ উদারভাবে ব্যয় করে, এবং সেই সম্পদ একজনের থেকে অন্য জনের কাছে যাওয়ার পরে তা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ স্থলগুলোতে এসে সম্মিলিত হয়।” এই আন্তর্জাতিক সত্তার এর থেকে ভালো বা সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা কি কেউ কল্পনা করতে পারে যা Martí(মার্তী)-এর চিন্তাধারার ওপর নির্ভরশীল এবং সেই সমস্ত ব্যক্তি যারা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করছেন তাদেরকে উৎসাহিত করা চালিয়ে যেতে পারে যেন এটি দেশের সীমানা নির্বিশেষে একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় যা প্যালেস্টাইন হোক বা দক্ষিণ আফ্রিকা, এল সালভাদর হোক বা পুয়ের্তো রিকো যা সর্বত্র হওয়া অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত? শর্তহীন নৈতিক বিধান এক আবশ্যক বিষয়, এক নির্দিষ্ট বিবৃতি যা সামগ্রিক পারস্পরিক সহায়তার দায়িত্ব পূরণ করার আহ্বান জানায়। বর্তমানে এই দায়িত্ব বলতে বোঝায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থাকা জনগণদের স্বতন্ত্রতার জন্য এবং জাতীয় স্বাধীনতার জন্য সংযুক্তভাবে লড়াই করা।বিশেষত আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর অর্থ হলো সাম্রাজ্যবাদের, উপনিবেশবাদ এবং নবউপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমস্ত জনগণদের সহায়তা করা। অথবা, কিউবার অতুলনীয় মুক্তিযোদ্ধার চিন্তাভাবনা অনুসরণ করে, আমাদের কাছে থাকা প্রতিটি পন্থা অবলম্বন করে অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া, যাতে আমাদের সমস্ত জনগণের জন্য, সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য ও নিপীড়িত মানুষদের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা যায়।

আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস স্বাধীনতা সংগ্রামের নিরিখে খুবই সমৃদ্ধ। ভাগ্যক্রমে, ল্যাটিন আমেরিকার ঐতিহাসিক ও সমাজবিদদের নতুন প্রজন্ম এই সমস্ত সামাজিক সংগ্রামের বিষয় পুনরুদ্ধার করার কাজ করছেন, যা ল্যাটিন আমেরিকার শাসক শ্রেণীর ভাবধারা অনুযায়ী এটির সরকারি সংস্করণের আড়ালে ধামাচাপা পড়েছিল। নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, প্রকৃত ইন্ডিয়ান জনগণের বিস্তার থেকে শুরু করে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের লড়াই, Tupac Amaru (টুপ্যাক অ্যামারু) থেকে Macandal (ম্যাকানদাল), আমাদের জনগণের ইতিহাসের ঐতিহ্যপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। বর্তমান ইতিহাস সম্পর্কিত কার্যকলাপের সম্মুখভাগে রয়েছে সাধারণ জনগণ, শ্রমিক, এই সমস্ত "ইতিহাসে উল্লেখ নেই" এমন মানুষরা। আমরা এই বিষয়টিকে এইভাবে দেখতে পারি যে সকল ব্যক্তি এই সমস্ত জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরাই নিপীড়ন ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন। আমরা তাদের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এই সমস্ত ঘটনার মাধ্যমে দেখতে পাই যেমন উনবিংশ শতকের হাইতীয় বিপ্লব, বিংশ শতকের কিউবার বিপ্লব, সম্প্রতি ঘটা স্যান্ডিনিস্তা বিপ্লব এবং বর্তমানে সালভাদরের জনগণের চালিত ঐতিহ্যমন্ডিত সংগ্রাম। আমাদের যুব সমাজ এই সমস্ত মানুষদের Toussaint L’Ouverture (তুসাঁ লুভেরতুর), Simon Bolívar (সিমন বলিভার), Ramón Emeterio Betances (রামোন এমেতেরিও বেতান্সেস), Eugenio Maria de Hostos (ইউজেনিও মারিয়া দে হোস্তোস), Jose Martí (জোস মার্তী), Augusto César Sandino (অগুস্তো সিজার সান্দিনো), Augusto Farabundo Martí (অগুস্তো ফারাবুন্দো মার্তি), Julio Antonio Bella (জুলিও আন্তোনিও বেলা), Pedro Albizu Campos (পেদ্রো আলবিজু কাম্পোস), Ernesto Guevara (এরনেস্তো গেভারা), Salvador Allende (সালভাদর আয়েন্দে)-এর মাধ্যমে চিনতে পারেন,সংক্ষেপে বলতে গেলে এই সমস্ত ব্যক্তিরা তাদের লেখনী ও কার্যকলাপের মাধ্যমে আমাদের আমেরিকার জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করেছেন - অবশ্যই এর মধ্যে তারা সেই সমস্ত বেনামী বীরপুরুষদের কথা উল্লেখ করতে ভুলে যাননি যারা সর্বত্র, সব রকমের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রতিবাদ ও লড়াই করেছিলেন, তাদের তৎকালীন সমাজের সাধারণ জনগণের থেকে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা বিফল করে দেওয়ার প্রচেষ্টা করেছিলেন।

জাতীয় স্বাধীনতার ধারণা পোষণ করতে এক সর্বাঙ্গীণ ও গভীর অধ্যবসায়ের প্রয়োজন যা আমরা তার এই সংক্ষিপ্ত পেপারের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি না। যদি আমাদের এটির মূল বিষয়গুলি তুলে ধরতে বলা হয় তাহলে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করতে পারি: ক) জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই; খ) জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পরেও সূক্ষ্ম এবং প্রকাশ্যভাবে চলতে থাকা উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম; গ) অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, অর্থাৎ, যে সমস্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এখনও বেসরকারি মালিকাধীন সেগুলো দেশের জনগণের ব্যবহার ও উপ করার জন্য পুনরুদ্ধার করতে সংগ্রাম; ঘ) এই সমস্ত উৎপাদনব্যবস্থা এবং সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর সামাজিকীকরণ করা। জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এই সমস্ত পদক্ষেপ নিতেই হবে যা স্পষ্টতই সমাজতন্ত্রে পরিণত হয়ে সমাপ্ত হবে।

আমরা যদি এই সমস্ত প্রক্রিয়ার উত্থান-পতন বিশদে বিশ্লেষণ করি, আমরা দেখতে পাবো যে এগুলি কোনো রৈখিক পথ অবলম্বন করেনি; বরং প্রতিটি প্রক্রিয়ার বিকাশের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে কিছুটা অগ্রগতি ঘটার পরে তা আবার বিপরীতমুখী হয়ে গিয়েছিল। তবুও, একটি বিষয় স্পষ্ট।জনসাধারণের বিরুদ্ধে সংগঠিত দমননীতি ক্রমাগত প্রয়োগ করে স্বাধীনতার জন্য জনগণের সংগ্রাম সাময়িকভাবে আটকানো গেলেও দীর্ঘ সময়ের জন্য এটিকে প্রতিহত করে রাখা যায়নি বা এটিকে কখনোই সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেওয়া যায়নি। দক্ষিণ দিকে থাকা দেশগুলো এবং মধ্য আমেরিকাতে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের ব্যবস্থার ওপর আঘাত আসতেই ফ্যাসিবাদি পদ্ধতি অবলম্বন করতে দেখা গিয়েছিল।

আমরা এখন উপরে উল্লেখিত জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে বিশদে নিরীক্ষণ করব।

প্রথমত, এটা স্পষ্ট যে কোনো জাতির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের জাতীয় স্বাধীনতা থাকা একান্ত প্রয়োজন। ষোড়শ শতাব্দীতে Jean Bodin (জঁ বোদাঁ ) যখন সার্বভৌমত্বের ধারণাটি ব্যাখ্যা করেন, তখন থেকেই এর অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব বজায় রাখা। এই ধারণাটি কেবল আইনত কাগজে-কলমে না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে হলে, সার্বভৌমত্বের মূল উৎস হতে হবে সেই দেশের সাধারণ মানুষ। সুতরাং, ঔপনিবেশিকতাবাদ যেহেতু ক্ষমতার উৎসকে অন্য দেশের হাতে তুলে দেয়, তাই এটি আসলে সার্বভৌমত্বের মূল নীতিরই পরিপন্থী। জাতীয় স্বাধীনতা হলো জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা, কারণ এটিই তাদের একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়। তবে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পরেও যে সেই সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হতে পারে, তা আমাদের সবারই জানা। আর ঠিক একারণেই জনগণের জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হিসেবে গড়ে তোলা উচিত - যে সাম্রাজ্যবাদ বিশ্ববাসীর মুক্তির চিরশত্রু। সাম্রাজ্যবাদ যে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা, তা যারা বুঝতে পারেন না; যারা এটা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন যে Vladimir Lenin (ভ্লাদিমির লেনিন)-এর কথা অনুযায়ী সাম্রাজ্যবাদ হলো একচেটিয়া পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর; এবং যারা এটা বোঝেন না যে সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো কখনোই উপনিবেশবাদ বা নব্য-উপনিবেশবাদের শিকার হওয়া দেশগুলোর প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ লুটে অংশ নেয়নি, বরং তাদের অনুন্নয়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করেছে, তারা আসলে ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, Fidel Castro (ফিদেল কাস্ত্রো) বহুবার এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। Tupac Amaru (তুপাক আমারু)-র সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের আমেরিকা-র মানুষের জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামগুলো সবসময়ই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম হিসেবে থেকেছে।

তবে জাতীয় স্বাধীনতা হলো জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক মাত্র। একবার স্বাধীনতা অর্জনের পর সামনে আসে আরেকটি বড় সমস্যা, সেই পরনির্ভরশীল সম্পর্কগুলো, যেগুলো সহজে বিলুপ্ত হয় না এবং নতুন সার্বভৌম রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যেও বারবার নতুন করে জন্ম নিতে থাকে। এই পরনির্ভরশীলতার শিকড় অনেক গভীরে; অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত। দেশগুলো যখন ‘নির্ভরশীল পুঁজিবাদী’ ব্যবস্থার অধীনে স্বাধীনতা লাভ করে, যেমনটা সাধারণত ঘটে থাকে, তখন উন্নয়নের অসমতা ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মতো নেতিবাচক প্রভাবগুলো সেখানে বজায় থাকার কারণে তাদের সেই বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং বহুল আলোচিত উত্তর-দক্ষিণ সংলাপের বিফলতা থেকেই প্রমাণিত হয় যে, পুঁজিবাদী দেশগুলো কাঁচামাল আর উৎপাদিত পণ্যের অসম বিনিময় থেকে যে সুবিধা আর বিশেষাধিকার পায়, তা ছেড়ে দিতে তারা মোটেই রাজি নয়। কাঁচামাল রপ্তানিকারী দেশগুলো যখনই তাদের নিজেদের সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব বা পূর্ণ অধিকার প্রয়োগের চেষ্টা করেছে, তখনই তারা আমদানিকারী দেশগুলোর প্রকাশ্য শত্রুতার মুখোমুখি হয়েছে। তা সত্ত্বেও, এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব রক্ষার দাবিটি Mexico (মেক্সিকো)-তে General Lázaro Cárdenas (জেনারেল লাজারো কার্দেনাস) জোরালোভাবে উত্থাপন করেছিলেন, তার এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমেই এমন এক অপরাজেয় প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল, যা আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়া সেই ধারণাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেয়, যে আমাদের জনগণ নিজেদের অধিকারভুক্ত সম্পদ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে অক্ষম।

অতএব, যদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম না থাকে, তবে জাতীয় স্বাধীনতা কেবল নামমাত্র সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। উনবিংশ শতাব্দীতেই Martí (মার্তী) আমাদের সতর্ক করেছিলেন যে, জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের পরেও একটি 'বাঘ' আমাদের জনগণের ওপর নজর রাখছে। এই বাঘটি সম্পর্কে সজাগ থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি বারবার রাতের আঁধারে ফিরে আসে জনগণের অর্জনগুলোকে বিপন্ন করতে। বলাই বাহুল্য, Martí (মার্তী) এখানে সেই সাম্রাজ্যবাদের কথা বলছিলেন যাকে তিনি খুব কাছ থেকে চিনেছিলেন; কারণ তিনি এর একেবারে গভীরে (বা কেন্দ্রে) বসবাস করেছিলেন, তাই তিনি আমাদের আমেরিকা-র মানুষকে সেই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র জন্য দৃঢ়ভাবে লড়াই করার ডাক দিয়েছিলেন, যা কেবল "আমাদের অবজ্ঞা করা সেই হিংস্র ও নিষ্ঠুর উত্তরের" বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হানার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। প্রকৃত সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা একটি অপরিহার্য শর্ত; এটি জনগণেরই দাবি যে তারা যেন বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোর চাপিয়ে দেওয়া শর্তের অধীনে না থাকে, তাদের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ যেন আন্তর্জাতিক শিল্প ও আর্থিক পুঁজির অধীনস্থ না হয় এবং তাদের ভূখণ্ড যেন সামরিক ও নৌঘাঁটির আস্তানা না হয়ে ওঠে, যা জনগণের সার্বভৌমত্বকে রুদ্ধ করে দেয়। এই শেষোক্ত পয়েন্টটির কথা বলতে গেলে Guantanamo (গুয়ান্তানামো) ঘাঁটির পরিস্থিতির কথা আসে, যা আজও Cuba (কিউবা)-র জনগণের জন্য একটি চরম অপমান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এখন পর্যন্ত যা আলোচনা করা হয়েছে তা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সার্বভৌমত্বের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণের এই সংগ্রাম অবশ্যই উৎপাদনের প্রধান উপকরণগুলোর সামাজিকীকরণ এবং সমাজতন্ত্রের অভিমুখী একটি প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত হওয়া উচিত। অবশ্যই এটি কোনো সহজ কাজ নয়। Cuba (কিউবা), Vietnam (ভিয়েতনাম) এবং Angola (অ্যাঙ্গোলা)-র মানুষের, কেবল এই তিনটি উদাহরণের কথা বললে বিপুল বিজয় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে এক ধরনের প্রতিহিংসামূলক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে এই প্রতিক্রিয়ার রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ হলো Reagan (রিগান) প্রশাসনের ক্ষমতায় আসা।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, U.S (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)-এর শাসক শ্রেণির সবচেয়ে একগুঁয়ে এবং সামরিক মনোভাবাপন্ন গোষ্ঠীটি ক্ষমতায় আসায় বিশ্বের সকল জাতির জাতীয় স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। Caribbean (ক্যারিবীয়) অঞ্চলে Nicaragua (নিকারাগুয়া) এবং Grenada (গ্রেনাডা) প্রতিনিয়ত সেই হস্তক্ষেপের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, যা মার্কিন আধিপত্যের অধীনে আমাদের দেশগুলোর ইতিহাসের এক দীর্ঘস্থায়ী অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিপ্লবী Cuba (কিউবা) আজ U.S. (মার্কিন) সাম্রাজ্যবাদের নতুন নতুন আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছে। এই শক্তিকে থামানোর একমাত্র পথ এবং বিশ্ব আধিপত্যের এই উন্মাদ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রতিহত করার একমাত্র শক্তি হলো সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের অস্তিত্ব, যে বিশ্ব United States (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) নামের এই সাম্রাজ্যবাদী প্রজাতন্ত্রটির জন্মলগ্ন থেকেই তাকে ঘিরে থাকা দম্ভ ও উদ্ধত আচরণের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়ে এসেছে।

সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তারের একটি ব্যবস্থা হিসেবে জাতীয় স্বাধীনতার সাথে ততক্ষণই আপস করতে পারে, যতক্ষণ সেই স্বাধীনতাকে পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্ককে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ব্যবহার করা না হয়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি এমনিতেই স্বাধীন দেশগুলোর সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিরক্তির কারণ; তবে সে ক্ষেত্রেও সবসময় নতুন কোনো বাণিজ্যিক বা শিল্প সম্পর্ক তৈরির সুযোগ থেকে যায়, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক সম্পদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াকে একটি উপহাসে পরিণত করে অথবা অকেজো করে তোলে। তবে পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্রের অভিমুখী এই রূপান্তরকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না, কারণ এটি ‘তৃতীয় বিশ্বের’ সামাজিক কাঠামোর জীবন ও সম্পদের ওপর তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যকে বিপন্ন করে তোলে। এমনকি জনগণের ক্ষমতার মতো কাঠামো তৈরি করাও শাসক শ্রেণিগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা কোনো অবাধ্যতা মেনে নেয় না; এই সাম্রাজ্য চায় নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, আর তা না পাওয়া গেলে শুরু হয় যুদ্ধ: এমন একটি যুদ্ধ যা শুরুতে অর্থনৈতিক আগ্রাসনের রূপ নিলেও, তাদের হাতে থাকা বিশাল সম্পদের জোরে তা রাসায়নিক ও জৈব যুদ্ধ পর্যন্ত গড়াতে পারে। 

এই প্রেক্ষাপটেই জনগণ তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য সংগ্রাম করছে, অর্থাৎ নিজেদের জাতীয় ভূখণ্ডের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের জন্য, যার মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সম্পদ ও পার্শ্ববর্তী আঞ্চলিক জলসীমা, জীবজন্তু ও উদ্ভিদকুল, জলসম্পদ ইত্যাদি। এই সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, যদি না প্রকৃত ক্ষমতা সেই সামাজিক শ্রেণির হাতে থাকে যারা সামাজিক সম্পদ উৎপাদন করে; যে শ্রেণীটি মানবজাতির উত্তরাধিকার হিসেবে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি বস্তুগত উৎপাদন শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে প্রতিনিধিত্ব করে: অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণী।

জাতীয় মুক্তি ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্বটি আসলে এই শ্রমিকশ্রেণির ওপরই বর্তায়, কৃষক ও অন্যান্য জনশ্রেণির সঙ্গে মিলিত হয়ে। কারণ জনগণের সার্বভৌমত্ব অর্জনের একমাত্র পথই হলো এই সংগ্রাম।

আমাদের প্রথম মুক্তিযোদ্ধারা যখন ভেঙে পড়তে থাকা স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তখন তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই ভয়াবহ নিপীড়নব্যবস্থার অবসান ঘটানো, যে ব্যবস্থা তার পশ্চাৎমুখী প্রভাবের মাধ্যমে আমাদের জনগণের নৈতিক ও বস্তুগত পূর্ণ বিকাশকে রুদ্ধ করে রেখেছিল। উদাহরণস্বরূপ, Antilles (অ্যান্টিলিস) দ্বীপপুঞ্জে এই মহান সংগ্রাম কেবল জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের জন্যই ছিল না, বরং তা ছিল কৃষ্ণবর্ণের দাসপ্রথা বিলোপ করার জন্যও। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই উনিশ শতকের অ্যান্টিলিসের তিনজন মহান ব্যক্তিত্ব-Hostos (হোস্তোস), Betances(বেতান্সেস) এবং Martí (মার্তি)-শুধু স্পেনের সঙ্গে ঔপনিবেশিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য লড়াই করা বিপ্লবীই ছিলেন না; বরং তারা এক মুহূর্তের জন্যও কল্পনা করতে পারেননি যে নতুন প্রজাতন্ত্রগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ দাসত্ব সহ্য করা হবে। তারা একইসাথে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিপ্লবের জন্য লড়াই লড়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই Karl Marx (কার্ল মার্ক্স) Capital (ক্যাপিটাল)-এর প্রথম খণ্ড লিখে ফেলেছেন এবং International Workingmen’s Association (আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংঘ) প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে সেই সময়ের ইউরোপের জন্য সমাজতন্ত্র একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে প্রাসঙ্গিক হলেও, Antillean (অ্যান্টিলেসের) এই মহান বিপ্লবীদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় তা সেভাবে প্রকাশিত হয়নি, হওয়া সম্ভবও ছিল না।

Antilles (অ্যান্টিলিস)-কে মুক্ত করার সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ঠিক সেই সময়ে যখন সাম্রাজ্যবাদ উন্মাদভাবে উপনিবেশ দখলের জন্য লড়াই করছিল, এবং বিশ্ব জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ পুঁজিবাদী সম্প্রসারণের শিকার হয়েছিল। Karl Marx (কার্ল মার্ক্স), যিনি 1883 সালে মারা যান, ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণ শুরু করেছিলেন, কিন্তু এর পূর্ণ বিবরণ পাওয়ার জন্য পরবর্তীতে V.I. Lenin (ভি.আই. লেনিন)-এর Imperialism: The Highest Stage of Capitalism (সাম্রাজ্যবাদ: পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর) কাজ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। যদিও Martí (মার্তী), Lenin (লেনিন)-এর আগে এই পরিস্থিতির একটি চমৎকার বর্ণনা দিয়েছিলেন এবং নির্দ্বিধায় একে ‘সাম্রাজ্যবাদ’ বলে অভিহিত করেছিলেন, তবুও বলা যায় তিনি লেনিনই ছিলেন যিনি ঐতিহাসিক বস্তুবাদ-এর ওপর ভিত্তি করে তাঁর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে দেখিয়েছিলেন কীভাবে জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের ঐতিহাসিক ভূমিকা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ। এভাবেই উপনিবেশবাদ বিরোধী এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামগুলোকে জাতীয় মুক্তি ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামের সাথে যুক্ত করার একটি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই মহান আদর্শের সার্থক দৃষ্টান্ত হিসেবে Ho Chi Minh (হো চি মিন)-এর মতো মহান বিপ্লবী ও জননেতার জীবন ও কাজের চেয়ে বড় আর কী হতে পারে!

সুতরাং, লাতিন আমেরিকার বিপ্লবের ঐতিহ্য, যেটুকু ধারাবাহিকভাবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছিল, তা জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় মুক্তির জন্য চলমান সংগ্রামের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। Grito de Yara (গ্রিতো দে ইয়ারা)-র শতবর্ষপূর্তিতে Fidel Castro (ফিদেল কাস্ত্রো) উনবিংশ শতাব্দীর বিপ্লবীদের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, তারা যদি আজ বেঁচে থাকতেন তবে তারা আমাদের মতোই হতেন; আবার আমরা যদি তখন বেঁচে থাকতাম তবে আমরা হতাম ঠিক তাদের মতো। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সংকল্প যদি আমাদের থাকে, তবে আমাদের অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।

একটি শেষ কথা। Martí (মার্তী) যাকে আমাদের আমেরিকা বলে ডাকতেন, সেই অঞ্চলের জনগণের জাতীয় মুক্তি কখনই সম্পূর্ণ হতে পারে না, যতক্ষণ না Bolivar (বোলিভার)-এর মুক্তিকামী দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত দেশ তাদের স্বাধীনতা অর্জন করছে। আমি U.S. (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)-এর একটি উপনিবেশ থেকে এসেছি, যা ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের আধিপত্যের শৃঙ্খলের অন্যতম শক্তিশালী একটি সংযোগসূত্র। স্বয়ং মেজর Ernesto Guevara (এর্নেস্তো গেভারা) জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, Puerto Rico (পুয়ের্তো রিকো)-র প্রতি একজন মানুষের সংহতি কতটা, তা দিয়েই তার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনার পরিমাপ করা সম্ভব। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আমাদের দেশের মানুষ স্বাধীনতা ও জাতীয় মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে Bolivar (বলিভার) এর সেই কবিতার শেষ পঙ্‌ক্তিটি লেখা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।কিন্তু যতক্ষণ না Puerto Rico (পুয়ের্তো রিকো) তার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অর্জন করছে, ততক্ষণ আমাদের আমেরিকার সমস্ত মানুষের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে থাকবে। তাই পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, Puerto Rico (পুয়ের্তো রিকো)-র জাতীয় মুক্তি আজ একটি অনিবার্য দাবি, যা বিশ্বের সমস্ত মানুষের লড়াকু সংহতি দাবি করে।

Manuel Maldonado-Denis (মানুয়েল মালডোনাডো-ডেনিস), ”National Liberation: Categorical Imperative for the Peoples of Our America,” ("জাতীয় মুক্তি: আমাদের আমেরিকার মানুষের জন্য একটি অনিবার্য দাবি,") Tricontinental (ট্রাইকন্টিনেন্টাল)82(1982), 8-15।

Available in
EnglishSpanishPortuguese (Brazil)GermanFrenchItalian (Standard)HindiArabicBengaliRussian
Translators
Santanu Kumar Ghosh and ProZ Pro Bono
Date
04.02.2026
Source
Black Agenda Report (BAR)Original article🔗
Progressive
International
Privacy PolicyManage CookiesContribution SettingsJobs
Site and identity: Common Knowledge & Robbie Blundell